আগরতলা, ২৪ আগস্ট: রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং নগর যানজট নিয়ে ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলল প্রদেশ কংগ্রেস। সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দলটির দাবি, প্রচার নয়, রাজ্যের বাস্তব সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সম্প্রতি বর্ধিত বিদ্যুৎ শুল্কের ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার সরকারি ঘোষণার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, তিন মাস অন্তর ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন কেন এবং ফুয়েল চার্জ, ফিক্সড চার্জ ও সান্ড্রিজ চার্জও এই ভর্তুকির আওতায় আসবে কি না। পাশাপাশি অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ শুল্ক বৃদ্ধি এবং প্রিপেড ও স্মার্ট মিটারে বাড়তি শুল্কের বিষয়েও সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে ফিডকো সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়েও সরকারের কাছে হিসাব চেয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা নিয়ে ফিডকো চলে যাওয়ার পর সরকার যে অর্থ উদ্ধার করেছে, তার মধ্যে মাত্র ১০ কোটি টাকা আর্নেস্ট মানি হিসেবে রয়েছে। বাকি অর্থের কী হয়েছে এবং ঘোষিত ভর্তুকির অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথা থেকে আসবে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তারা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পাশাপাশি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে হাসপাতালে পৌঁছনোর পথে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এবং বিলোনিয়া হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জের ঘাটতির কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পরিকাঠামোর ঘাটতি দূর করার দাবি জানিয়েছে দলটি।
হাওড়া নদী সংস্কার প্রসঙ্গেও সরকারকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। তাদের প্রশ্ন, গত আট বছর ধরে নদী সংস্কারের জন্য সরকার কেন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। প্রতি বছর বন্যার পর নতুন করে প্রতিশ্রুতি না দিয়ে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আগরতলা শহরের যানজটের জন্য ই-রিকশা ও ই-অটোকে দায়ী করার সরকারি পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, কর্মসংস্থানের অভাবে শিক্ষিত যুবকরাও জীবিকার তাগিদে ই-রিকশা ও ই-অটো চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই যানজটের মূল কারণ হিসেবে শুধু ছোট যানবাহনকে দায়ী না করে পরিকল্পনাহীন রাস্তা সংস্কার ও নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
পোস্ট অফিস চৌমুহনী থেকে নেতাজি চৌমুহনী পর্যন্ত রাস্তার পাশে ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের বিষয়েও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে কংগ্রেস। এমএল প্লাজা ও নবনির্মিত শপিংমলের পার্কিং ব্যবস্থার জন্যই ছোট ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রস্তাব, ই-রিকশা ও ই-অটো সম্পূর্ণ বাতিল না করে জেলাভিত্তিক পারমিটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একইসঙ্গে ই২০ প্রকল্প বন্ধ করা, দলীয় সংকীর্ণতা পরিহার করে প্রশাসনকে জনস্বার্থে পরিচালনা এবং নগর পরিবহণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতির শেষে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রচারসর্বস্ব কর্মসূচি দিয়ে রাজ্যের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, সুপরিকল্পনা এবং সর্বদলীয় আলোচনা। জনগণের স্বার্থে সরকারকে বাস্তব সমস্যাগুলির সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।





















