কলকাতা, ২১ আগস্ট (আইএএনএস): যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান উঠলে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ফের দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা স্লোগান দেখা গেলে তাঁর দল তা বরদাস্ত করবে না।
তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে পরপর দুই দফা সংঘর্ষ। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত প্রথম দফায় এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই এবং আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র সদস্যরা।
দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চললেও তা বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে এবং বিজেপি সরকার এই ধরনের কার্যকলাপ মেনে নেবে না।
এদিকে, পরপর দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীকচিহ্নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর নকশা করা এই প্রতীকচিহ্নটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শুক্রবার বিকেল ৩টেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। অন্যদিকে, বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠন শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিলের ডাক দিয়েছে।
সংঘর্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকচিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবাদে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনও শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া উচিত নয়।



















