জয়পুর, ২১ আগস্ট (আইএএনএস): সরকারি স্কুল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে জয়পুরের সাংগানেরের রামপুরা কানওয়ারপুরা এলাকায় গ্রামবাসী ও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে সিজেপি কর্মীরা একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গেলে গ্রামবাসীরা তাঁদের স্কুল চত্বরে ঢুকতে বাধা দেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রে পরিণত করা উচিত নয়। তাঁদের দাবি, স্কুল ভবনের সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই সরকার ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ তাঁরা নিজেরাই করতে সক্ষম এবং বাইরের কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ তাঁরা চান না।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রানকা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর। রানকার অভিযোগ, তাঁর দলের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতি করা হয়েছে এবং তাঁকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্কুলের গেটে সিজেপি কর্মীদের আটকে দিয়ে গ্রামবাসীরা তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেননি। তাঁদের বক্তব্য, গ্রামের স্কুলের সমস্যা সমাধানে বাইরের রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন নেই। কিছু বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, কিছু সংগঠন ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করে। নিজেদের এলাকার বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করতে চান বলে জানান তাঁরা।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে রানকা গ্রামবাসীদের একাংশকে ‘বিজেপির গুন্ডা’ বলে অভিযোগ করেন। সরকারি স্কুলের সমস্যাগুলি তুলে ধরতে তাঁদের বাধা দেওয়ার জন্য সরকারি যন্ত্রকে দায়ী করেন তিনি।
রানকার দাবি, রামপুরা কানওয়ারপুরার সরকারি স্কুলটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে পড়ুয়াদের অত্যন্ত খারাপ পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। স্কুলের অবস্থা তুলে ধরতে গেলে তাঁর দলের সদস্যদের হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার জয়পুরে দুটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল সিজেপি দলের। সকাল ৮টায় রামপুরা কানওয়ারপুরার সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের পর সকাল সাড়ে ১১টায় ভাটিকা রোডের একটি সরকারি স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। ওই স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে প্রথম স্কুলের পরিদর্শন গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ব্যাহত হয়।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন রাজস্থান শিক্ষা দফতর সম্প্রতি সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং অনুমতি ছাড়া ভিডিও করা ও স্কুল সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছে। শিক্ষার পরিবেশ ও শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষার কথা উল্লেখ করে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
তবে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, এর ফলে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শিক্ষক ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবের মতো সমস্যাগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ঘটনার পর পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য এলাকায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সরকারি স্কুল কে পরিদর্শন করতে পারবেন এবং শিক্ষা পরিকাঠামোর ঘাটতি কীভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
……..



















