বিজয়ওয়াড়া, ২১ আগস্ট (আইএএনএস): ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে ২৪.৮১ কোটি টাকার কথিত জালিয়াতির অভিযোগে বিজয়ওয়াড়াভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা, তার চার পরিচালক এবং অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি ও বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)।
ইউনিয়ন ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বিজয়ওয়াড়া জোনাল অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার চিনারি শ্রীকান্ত পাত্রোর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৮ আগস্ট বিশাখাপত্তনমের সিবিআই এসিবি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।
এফআইআরে অভিযুক্ত সংস্থা হিসেবে ওমকারা বিজয়লক্ষ্মী স্ট্রিপস প্রাইভেট লিমিটেডের নাম রয়েছে। সংস্থার পরিচালক কোট্টা ভানু প্রসাদ, কোট্টা শ্রাবণী, কোট্টা পৃথ্বী ভেঙ্কট তেজা এবং কোট্টা রাহুল সাই বালাজিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মী ও বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিবিআই জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এফআইআর অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই সংস্থা ইআরডাব্লিউ গ্যালভানাইজড পাইপ এবং অন্যান্য ইস্পাতজাত পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অভিযোগ, ২০২৪ সালে সংস্থার পরিচালকরা অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মী ও বেসরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে কারুর বৈশ্য ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ইউনিয়ন ব্যাংকে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন। এ সময় ভুয়ো আর্থিক বিবরণী ও অন্যান্য নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটি মোট ২৪.৯৮ কোটি টাকার ফান্ড-বেসড ও নন-ফান্ড-বেসড ঋণ সুবিধা অনুমোদন করে বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে স্টক, বুক ডেট, প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি এবং স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে সংস্থার ইউনিট পরিদর্শনের সময় ঘোষিত স্টক ও বাস্তবে থাকা স্টকের মধ্যে বিপুল অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে অভিযোগ। সংস্থা ২৩.৮৫ কোটি টাকার স্টক থাকার কথা জানালেও বাস্তবে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার স্টক পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী বিক্রি বা ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া যায়নি বলে সিবিআইয়ের এফআইআরে দাবি।
এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনের ছয় মাসের মধ্যে সংস্থার দুই পরিচালক অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি না নিয়েই পদত্যাগ করেন। পরে তাঁরা ‘নেরো স্টিলস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেন, যার ওপর কানারা ব্যাংকের ৬.০১ কোটি টাকার চার্জ ছিল।
অভ্যন্তরীণ তদন্তে কারুর বৈশ্য ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছে সিবিআই। পাশাপাশি বুক ডেটের বয়স সংক্রান্ত তথ্য গোপন, কারেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন, সীমিত সংখ্যক সংস্থার সঙ্গে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, পরিচালক ও স্ট্যাটুটরি অডিটরদের অনুমোদনহীন পরিবর্তন এবং ব্যাংককে না জানিয়ে সংস্থার ইউনিট থেকে স্টক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এফআইআরে বলা হয়েছে, মারুতি ট্রেডার্সের নামে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। অন্যদিকে মোট ৬৭.৫৪ কোটি টাকার ক্রেডিটের মধ্যে ৩২.১৯ কোটি টাকা শ্রী দুর্গা ভবানী স্টিলসের নামে জমা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, উভয় সংস্থাই ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ব্যাংকের তদন্তের সময় কার্যত চালু ছিল না। ফলে তহবিল সরিয়ে নেওয়া এবং ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা বাড়াতে কৃত্রিমভাবে ব্যবসার পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানোর জন্য ওই সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে সিবিআই।
অভিযোগ, অভিযুক্ত পরিচালকরা ভুয়ো ও জাল আর্থিক তথ্য, ফুলিয়ে দেখানো স্টক ও বুক ডেটের বিবরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য গোপন করে ব্যাংককে ঋণ অনুমোদনে প্ররোচিত করেছিলেন।
ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ না হওয়ায় ২০২৫ সালের ২৩ জুন অ্যাকাউন্টটি এনপিএ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। সুদসহ বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২৬.০৫ কোটি টাকা বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের কথিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২৪,৮১,৪৭,০০০ টাকা বলে জানিয়েছে সিবিআই।



















