আগরতলা, ১৯ আগস্ট: আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের অবদান কোনও দিনই ভোলার নয়। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ত্রিপুরার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহারাজার ১১৮তম জন্মবার্ষিকীতে এই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।
বুধবার আগরতলার জিরো পয়েন্টে মহারাজা বীর বিক্রমের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বলেন, মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যকে আধুনিক ত্রিপুরার স্থপতি বলা হয়। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে রাজ্যের মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, সড়ক নির্মাণ, নগর উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কারসহ ত্রিপুরার সামগ্রিক উন্নয়নে মহারাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাভাবনাকে আরও প্রসারিত করেছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
ডা. সাহা বলেন, ২০১৮ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মানিক্য রাজপরিবারের শাসকদের পাশাপাশি ত্রিপুরার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জিরো পয়েন্টের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কামান চৌমুহনীর কাছে ওই এলাকা অনেকটা দ্বীপের মতো ছিল এবং নির্দিষ্ট কোনও পরিচয় ছিল না। পরে ঐতিহাসিক জিরো মাইলস্টোন পুনরুদ্ধার ও উঁচু করে সেখানে মহারাজা বীর বিক্রমের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।
আগরতলা শহরের উন্নয়নেও মহারাজার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের রাস্তা, বিভিন্ন ভবন এবং পুর প্রশাসনের বিকাশে মহারাজা বীর বিক্রম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর শাসনকালেই আগরতলার প্রাচীন পুরসভাগুলোর অন্যতম প্রতিষ্ঠিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে মহারাজা বীর বিক্রমের বিশেষ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহারাজার আমন্ত্রণে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধিকবার ত্রিপুরায় এসেছিলেন। রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক বিকাশেও মহারাজার অবদান স্মরণ করা জরুরি বলে জানান ডা. সাহা।
তরুণ প্রজন্মের কাছে মহারাজার ইতিহাস ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরার ওপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে মহারাজা বীর বিক্রমের কাজ সম্পর্কে জানতে হবে। তাঁর চিন্তাভাবনা ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে পড়াশোনা করা দরকার। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের অবদান মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকাশও, বিরাসতও’ ভাবনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণও জরুরি। ত্রিপুরার উন্নয়নে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের স্মরণ করা এবং তাঁদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সরকারের দায়িত্ব।
মহারাজা বীর বিক্রমের অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তাভাবনার কথাও তুলে ধরেন ডা. সাহা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জনজাতিকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়েছিলেন মহারাজা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশের অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করেছিল।
আগের সরকারগুলির আমলে মহারাজাদের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায়নি বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান সরকার মানিক্য শাসকদের ঐতিহাসিক অবদান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিন রবীন্দ্র ভবনে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের জীবন, চিন্তাভাবনা ও অবদান নিয়ে একটি বিস্তারিত অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মহারাজার ১১৮তম জন্মবার্ষিকীতে নিজের, রাজ্য সরকার এবং ত্রিপুরার জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান ডা. মানিক সাহা। একই সঙ্গে রাজ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, কাউন্সিলর রত্না দত্তসহ অন্যান্যরা।



















