হায়দরাবাদ, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): তেলেঙ্গানার বিধানসভায় বিআরএসের উপনেতা টি. হরিশ রাও এবং দলের কয়েকজন নেতাকে বুধবার গৃহবন্দি করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। তেলেঙ্গানা ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (টিআইএমএস) পরিদর্শনে যাওয়া আটকাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।
কোকাপেটে হরিশ রাওয়ের বাড়ির সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। ১৭ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী এ. রেবন্ত রেড্ডি উদ্বোধন করা সনথনগরের টিআইএমএসে যাওয়ার জন্য হরিশ রাও বেরোতে চাইলে পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে দেয়। প্রাক্তন মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিনি ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে চান। বিআরএস সরকারের আমলেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিআরএস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। একপর্যায়ে পুলিশ ও হরিশ রাওয়ের সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। গৃহবন্দির খবর পেয়ে বিআরএস বিধায়ক সুধীর রেড্ডিও ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
বিরোধী দল বিআরএসের অভিযোগ, গৃহবন্দি ও আটক করে সরকারের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য প্রকাশের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস সরকার। প্রাক্তন মন্ত্রী সবিতা ইন্দ্রা রেড্ডি এবং তালসানি শ্রীনিবাস যাদবকেও গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে দলটির দাবি।
হরিশ রাও পুলিশি আটক ও গৃহবন্দির তীব্র নিন্দা করেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং সরকারের ব্যর্থতা যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সে কারণেই বিরোধী নেতাদের আটক করা হচ্ছে।
জনসাধারণের সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য নেতাদের গৃহবন্দি করাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন বিআরএস নেতা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশি ধরপাকড় এবং কার্যত ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র মাধ্যমে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।
হরিশ রাও আরও অভিযোগ করেন, টিআইএমএস হাসপাতালগুলির নির্মাণকাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হচ্ছে না, কারণ তা হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)-এর কৃতিত্ব স্বীকার করতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিআরএস সরকারের আমলে পরিকল্পিত ও শুরু হওয়া সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালগুলির নির্মাণকাজ কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ধীর হয়ে যায়।
–আইএএনএস



















