হরিদ্বার, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): ভারত কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা শুধু শাসক দলের দেশ নয়, এই দেশ ১৪৫ কোটি নাগরিকের—৮০তম স্বাধীনতা দিবসে এমনই মন্তব্য করলেন যোগগুরু বাবা রামদেব। শনিবার পতঞ্জলি যোগপীঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
রামদেব বলেন, ভারতের স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ সাহসী নারী-পুরুষ আত্মবলিদান দিয়েছেন। এখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা।
তিনি বলেন, “এই দেশ কোনও রাজনৈতিক দল বা শুধু শাসক দলের নয়। এটি শুধু বিধায়ক, সাংসদ, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতিরও নয়। এই দেশ ১৪৫ কোটি ভারতীয়ের।” তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির যে অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে, তা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সঙ্গেও যুক্ত। সংবিধানই নাগরিকদের এই অধিকার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক নেতাদের পারস্পরিক সংঘাত এড়িয়ে গণতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর আহ্বান জানান রামদেব। তিনি বলেন, নেতাদের নিজেদের মধ্যে লড়াই না করে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। তাঁর কথায়, ‘ভাগ করে শাসন’ নীতি এখনও দেশে সক্রিয় রয়েছে এবং ভালোবাসার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
দেশে ইতিবাচক কাজ হলে তার প্রশংসা করারও আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে রামদেব বলেন, জেন-জি প্রজন্মের অনেকেই ভালো কাজ করছেন, যদিও কিছু ক্ষেত্রে তরুণদের হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।
তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। গ্রামাঞ্চলের বহু পড়ুয়ার শিক্ষক, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সমস্যার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রামদেব।
সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি, জাতপাত ও মতাদর্শের ভিত্তিতে বাছাইয়ের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী। ‘সত্যমেব জয়তে’-র কথা বলা হলেও বাস্তবে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রামদেব বলেন, প্রতিবাদের নামে অরাজকতাকে তিনি সমর্থন করেন না। তবে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের দ্রুত সমাধান না হলে মানুষের প্রতিবাদ আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।



















