News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • অশান্তির মধ্যেও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক
Image

অশান্তির মধ্যেও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক

নয়াদিল্লি, ১৫ আগস্ট (আইএএনএস): আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের পাঁচ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারতের সঙ্গে তালিবান কর্তৃপক্ষের বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে মনে করছে বিদেশ মন্ত্রক। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্যেও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার শুরু করার পরবর্তী অশান্ত সময়েও কাবুলে ভারতের দূতাবাসে তেরঙ্গা উড়েছিল। ১৯৮৮ সালের মাঝামাঝি শুরু হওয়া সোভিয়েত প্রত্যাহার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে এক দশকব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটে।

সোভিয়েত বাহিনী কাবুলের কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করলেও পাকিস্তান ও আমেরিকার সহায়তায় প্রশিক্ষিত ও সশস্ত্র মুজাহিদিনদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। এই সংঘাত সোভিয়েত অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং শীতল যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতিসংঘের একটি কম্পাউন্ডে আশ্রয় নেন। ১৯৯৬ সালে তালিবান প্রথমবার কাবুল দখল করার পর তাঁকে হত্যা করা হয়। এর কিছুদিন আগে, ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে তালিবান শাসনের অবসানের পর ভারত আফগানিস্তানের নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০০৮ সালের ৭ জুলাই কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের প্রবেশপথে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ৫৯ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় আধিকারিক এবং একজন স্থানীয় চালক ছিলেন। আহত হন ১৫০-র বেশি মানুষ। হামলার পরও ভারতীয় দূতাবাস তার কার্যক্রম চালিয়ে যায়।

২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার সময় তালিবান ফের কাবুল দখল করলে ভারতীয় মিশন আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস পুনরায় খোলা হয়, যা তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর ভারত-আফগানিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান-সমর্থিত আফগান মুজাহিদিনদের একটি অংশ ভারতের প্রতি বিরূপ ছিল। অন্যদিকে আহমদ শাহ মাসুদ এবং আবদুল রশিদ দোস্তমের মতো তাজিক ও উজবেক নেতারা ভারতের মানবিক সহায়তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

তালিবান নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম কারণ পশতুনদের দীর্ঘদিনের ডুরান্ড লাইন-সংক্রান্ত বিরোধ। ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার হেনরি মর্টিমার ডুরান্ড নির্ধারিত এই সীমারেখা পশতুনদের একটি বড় অংশের মতে তাদের ঐতিহাসিক অঞ্চলকে বিভক্ত করেছে।

আফগানিস্তানে তালিবানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় পাকিস্তানের ‘বড় ভাইসুলভ’ আচরণও অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ইসলামাবাদের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে এবং ভারতকে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

—আইএএনএস

Releated Posts

ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার নৌপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় নৌপ্রধান, সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

ক্যানবেরা, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার নৌপ্রধান ভাইস…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

৯/১১ হামলার ২৫ বছর, নিহতদের স্মরণ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত মোদির

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

ইএইউ-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত করতে উদ্যোগ, আন্দ্রে স্লেপনেভের সঙ্গে বৈঠকে পীযূষ গোয়েল

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রস্তাবিত ভারত-ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বাজারে…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা

নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। বিমানবন্দরে…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026
Scroll to Top