নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): জীবনে দ্রুত সাফল্য পাওয়ার জন্য ‘শর্টকাট’ বা সহজ পথের সংস্কৃতিতে প্রভাবিত না হয়ে সফল ব্যক্তিত্বদের জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া এবং তাঁদের আত্মজীবনী পড়ার জন্য দেশের তরুণদের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী ‘ট্রায়াম্ফ অব দ্য ইন্ডিয়ান রিপাবলিক: মাই লাইফ, মাই স্ট্রাগলস’ প্রকাশ করে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উঠে এসে কীভাবে একজন মানুষ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন, রামনাথ কোবিন্দের জীবন তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কোবিন্দ শুধু নিজের জীবনকে সম্মানিত করেননি, দেশের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছনোর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেন মোদি।
তিনি বলেন, সমস্যা দেখে যারা হাল ছেড়ে দেয় না এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কঠিন কাজকে সহজ করে তোলার সাহস রাখে, তরুণদের কোবিন্দের জীবন থেকে সেই শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁর আত্মজীবনী দেশের যুবশক্তিকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তরুণদের উদ্দেশে মোদি বলেন, বর্তমান সময়ে ‘রিল’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং দ্রুত সাফল্য পাওয়ার প্রবণতার মধ্যে তরুণদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি রেলস্টেশনে লেখা একটি সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “শর্টকাট আপনাকে ছোট করে দেবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের তাঁরা যাঁদের আদর্শ মনে করেন, তাঁদের আত্মজীবনী পড়া উচিত। আত্মজীবনী ঐতিহাসিক ঘটনাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ দেয় এবং কোনও ব্যক্তির জীবনের সময়কাল ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতিহাসকে আরও কাছ থেকে বোঝা যায়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রামনাথ কোবিন্দের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল তাঁর আত্মজীবনী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, বিশেষ করে দেশের তরুণদের উপকারে আসবে।
মোদির বক্তব্যে উঠে আসে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের সঙ্গে কোবিন্দের অভিজ্ঞতার কথাও। ওই অভিজ্ঞতা কীভাবে কোবিন্দের জনসেবা ও রাজনীতি সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছিল, আত্মজীবনীতে তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য কোবিন্দের জীবন থেকে অনেক শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। সরলতা, সততা এবং দায়বদ্ধতা কীভাবে একটি অর্থবহ জীবনের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে, তাঁর জীবনযাত্রায় তার প্রতিফলন রয়েছে।
মোদি বলেন, কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা মানুষকে জীবনে এগিয়ে চলার আলো দেখায় এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার শক্তি পাওয়া যায়। বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কোবিন্দের নিষ্ঠার উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোবিন্দ তাঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় রয়েছেন। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তিনি কাজ করে চলেছেন এবং দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন বলে জানান মোদি।
কোবিন্দের সংসদীয় জীবন ও রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সংসদে দায়িত্ব পালনের সময় এবং রাজ্যপাল হিসেবে কোবিন্দ কর্তব্যনিষ্ঠার যে নজির তৈরি করেছিলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও সেই দায়বদ্ধতা অব্যাহত ছিল।
মোদি বলেন, রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরও কোবিন্দ নিজেকে জনজীবন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে নেননি।
—আইএএনএস


















