নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): বিশ্ব হাতি দিবসে ভারতের পরিবেশগত ঐতিহ্যে হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার তিনি বলেন, বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি বন্য এশীয় হাতির আবাসস্থল ভারত হওয়ায় তা অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “বিশ্ব হাতি দিবসে আমরা এই মহিমান্বিত প্রাণীকে উদযাপন করি, যা ভারতের পরিবেশগত ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি বন্য এশীয় হাতির বাস ভারতেই।”
তিনি জানান, দেশে ৩৩টি হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্র রয়েছে। এগুলি হাতিদের নিরাপদ আবাসস্থল দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করছে। হাতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বনকর্মী, বিজ্ঞানী, পশুচিকিৎসক, মাহুত এবং স্থানীয় সম্প্রদায়গুলিরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ইনস্টাগ্রামেও কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লেখেন, “বিশ্ব হাতি দিবসের শুভেচ্ছা। হাতির সংরক্ষণ ও কল্যাণে কাজ করা প্রত্যেককে অভিনন্দন।”
প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়। বিশ্বের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে পরিচিত হাতিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। সহমর্মিতা, আত্মপরিচয় এবং শক্তিশালী সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনের মতো বৈশিষ্ট্যের জন্য হাতি বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের প্রাণী।
২০১২ সালের ১২ আগস্ট প্রথম বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়। এশীয় ও আফ্রিকান হাতিদের অস্তিত্বের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই ছিল এর লক্ষ্য। চোরাশিকার, আবাসস্থল ধ্বংস, মানুষ-হাতি সংঘাত এবং বন্দিদশায় দুর্ব্যবহার—হাতিদের সামনে এখনও একাধিক বড় হুমকি রয়েছে।
থাইল্যান্ডের এলিফ্যান্ট রিইনট্রোডাকশন ফাউন্ডেশন এবং কানাডার চলচ্চিত্র নির্মাতা প্যাট্রিসিয়া সিমসের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব হাতি দিবসের সূচনা হয়। পরবর্তীকালে সিমস হাতি সংরক্ষণ ও সচেতনতার এই উদ্যোগকে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হাতির সংখ্যা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী করা, বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং কার্যকর নীতি গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে এই দিনটি। পাশাপাশি সংরক্ষণ সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও প্রাণীকল্যাণ কর্মীদের হাতি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির সুযোগও করে দেয়।
সম্প্রতি ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে হাতিদের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উঠে এসেছে। গত এক বছরে হাতি, এমনকি হাতির শাবকদের উপর ধারালো অস্ত্র, বাজি এবং আগুনের গোলা ব্যবহার করে মানুষের হামলার একাধিক উদ্বেগজনক ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে।
২০২৩ সালের ‘রিপোর্ট অন এলিফ্যান্ট করিডোরস ইন ইন্ডিয়া’ অনুযায়ী, ভারতে ৩৩টি হাতি সংরক্ষণ ক্ষেত্র এবং চিহ্নিত ১৫০টি হাতি করিডর রয়েছে। হাতির পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ভারত হাতিকে ‘জাতীয় ঐতিহ্যবাহী প্রাণী’র মর্যাদাও দিয়েছে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতেও হাতির গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।
–আইএএনএস



















