কলকাতা, ১২ আগস্ট (আইএএনএস): বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত ও সম্ভাব্য নিম্নচাপের জোড়া প্রভাবে স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বুধবার আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বুধবার উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর জেরে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বীরভূমে এবং শনিবার বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ১৪ আগস্ট দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার—এই পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ আগস্ট দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.০২ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.০১ ডিগ্রি কম।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া জেলায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
পুরুলিয়ার জয়পুর থানা এলাকায় ধান রোপণের কাজ করার সময় বজ্রপাতে চার মহিলা শ্রমিক আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে জয়পুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুনীতা গোপ (৫০) নামে এক মহিলাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, বলরামপুর থানার অন্তর্গত রাঙ্গাডি গ্রামের বাসিন্দা গৌর গরাই (৭০) মাঠে গরু চরানোর সময় বজ্রপাতে মারা যান।
আড়শা থানার লক্ষ্মণপুর গ্রামেও বজ্রপাতে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মাঠে ছাগল চরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে ভারতী মাহাতো (৫১) মারা যান। একই থানা এলাকার কাঞ্চনপুর গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সচিনাথ মাহাতো (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
—আইএএনএস



















