ধর্মনগর, ১২ আগস্ট: দীর্ঘ ১১ মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ধর্নায় বসেন ২৭ জন নিরাপত্তাকর্মী। বুধবার হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডা. ভাস্কর দাসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছে বলে অভিযোগ আন্দোলনরত কর্মীদের।
নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট এনবিএস কোম্পানির মাধ্যমে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু প্রায় ১১ মাস ধরে তাঁদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো থেকে শুরু করে সন্তানদের পড়াশোনা—সবকিছু নিয়েই সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।
এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, “প্রায় ১১ মাস ধরে আমরা বেতন পাচ্ছি না। আমাদের সংসার রয়েছে, ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। এতদিন বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে।”
দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ার কারণে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের দুরবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু রোগী ও তাঁদের পরিজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। হাসপাতাল চত্বরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও তাঁদের পরিজনের সমাগম হয়। ফলে নিরাপত্তাকর্মীরা দীর্ঘ সময় কাজ থেকে বিরত থাকলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।
পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডা. ভাস্কর দাস। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। কোম্পানির মালিককে ধর্মনগরে এসে কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে।
মেডিকেল সুপারের আশ্বাসের পর আপাতত ধরনা তুলে নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত তাঁদের দীর্ঘ ১১ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন দীর্ঘ ১১ মাস ধরে নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন আটকে রয়েছে? সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে এতদিনেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কর্মীদের বকেয়া বেতন কবে পরিশোধ করা হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ২৭ জন নিরাপত্তাকর্মী ও তাঁদের পরিবার।



















