নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাসে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত-মনোনীত বিপুল জানালেন, ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে ‘ঐতিহাসিক ও বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে। আগামী বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
‘আরব নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিপুল বলেন, সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের জন্য ভারত সরকার তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তাতে তিনি ‘সম্মানিত ও গর্বিত’। গত ২ জুন বিদেশ মন্ত্রক সৌদি আরবে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিপুলকে নিয়োগ করে। বর্তমানে তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শীঘ্রই তিনি সৌদি আরবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত-সৌদি আরব সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিপুল বলেন, “আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, বিশেষ এবং অবশ্যই কৌশলগত। দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে মিল রয়েছে এবং তা সবসময় একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, গত এক দশকে ভারত ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে এবং নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত-মনোনীত বিপুল জানান, গত তিন বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। রাজনৈতিক স্তরেও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কাউন্সিলের অধীনে মন্ত্রী পর্যায়েও নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিপুল। তাঁর কথায়, পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতি “বিশ্বের সকলের কাছেই অত্যন্ত উদ্বেগজনক”। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ সহযোগিতা করতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে ভারতের কাছে দেশের উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেও জানান তিনি।
এর আগে ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবের যুবরাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণে যুবরাজের অব্যাহত সহযোগিতার জন্যও তাঁকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনার পর সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছিলেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত নিয়ে মহম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলার নিন্দায় ভারতের অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জাহাজ চলাচলের পথ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই নেতা একমত হন।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং শীর্ষ সামরিক আধিকারিকরা নিহত হন। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা, আঞ্চলিক রাজধানী এবং পশ্চিম এশিয়ায় তাদের মিত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে।
— আইএএনএস



















