নয়াদিল্লি, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): বিস্তারিত আলোচনা শুরুর আগেই বিরোধী সাংসদদের ওয়াকআউটের মধ্যে সোমবার রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হল ‘ব্যাঙ্কার্স’ বুকস এভিডেন্স বিল, ২০২৬’।
দিনের শুরুতে একাধিকবার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পর ফের সভা বসলে উপসভাপতি হরিবংশ নারায়ণ সিং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে লোকসভায় ইতিমধ্যেই পাশ হওয়া বিলটি বিবেচনার জন্য পেশ করতে বলেন।
এই বিলের মাধ্যমে ১৩৫ বছরের পুরনো ‘ব্যাঙ্কার্স’ বুকস এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৯১’ বাতিল করে বর্তমান ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে আর্থিক নথিকে আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের কাঠামো।
বিলটি পেশ হওয়ার সময়ও বিরোধী সাংসদরা স্লোগান দিতে থাকেন। বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে উপসভাপতি জানান, ১৯৫২ সালে প্রণীত নিয়ম অনুযায়ী তিনি বক্তব্য রাখতে পারবেন, তবে তাঁকে বিলটির বিষয়ের মধ্যেই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
বিলটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ১৮৯১ সালের মূল আইনটি এমন সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন ব্যাঙ্কিংয়ের নথি মূলত কাগজে সংরক্ষিত থাকত। আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাঙ্কের নথির সত্যায়িত কপিকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, যাতে ব্যাঙ্ককর্মীদের মূল খাতা নিয়ে আদালতে হাজির হতে না হয়।
বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের দ্রুত প্রসারের ফলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নথি তৈরি, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। তাই বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে আধুনিক ও আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন হয়েছে বলে জানান তিনি।
সীতারামন বলেন, নতুন আইনে ‘‘সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও সুরক্ষা’’ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া সদস্যরা দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে আইনি কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়েও তাঁরা মতামত দেন।
বিলটি নিয়ে আলোচনার আগে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দুপুরে রাজ্যসভা ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায়। উপসভাপতি অর্থমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখার জন্য ডাকতে শুরু করার দু’মিনিটের মধ্যেই বিরোধীদের প্রতিবাদে অধিবেশন ব্যাহত হয়।
‘ব্যাঙ্কার্স’ বুকস এভিডেন্স বিল, ২০২৬’ পাশের ফলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল নথি ও তথ্যকে আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আধুনিক কাঠামো তৈরি হবে বলে সরকার মনে করছে।
—আইএএনএস



















