ভোপাল/রাজগড়, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): প্রবল বৃষ্টিতে সোমবার মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন অংশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজগড় জেলায় জলে ফুলে ওঠা একটি নালায় গাড়ি ভেসে গিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। জলমগ্ন রাস্তা ও বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে স্বাভাবিক জনজীবন এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজগড় জেলার পাদানা শহরের কাছে পাচোর-সারংপুর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ১১ জন যাত্রীকে নিয়ে একটি ভ্যান জলের তোড়ে ঝিরি নালায় ভেসে যায়। নির্মীয়মাণ একটি সেতু জলের নীচে ডুবে থাকলেও চালক সেটি বুঝতে না পেরে গাড়ি নিয়ে সেতুর উপর উঠে পড়েন। এরপর প্রবল স্রোতে গাড়িটি নালায় প্রায় ২০ ফুট দূরে ভেসে যায়।
গাড়িতে তিনজন পুরুষ, চারজন মহিলা এবং চারটি শিশু ছিল। তাঁরা দেওয়াস জেলার সাতবাস থেকে কদলভাদ গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ‘‘তিনজন গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।’’
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বৃষ্টির জল সেতুর উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চালক নির্মীয়মাণ সেতুটির বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ঘটনাস্থলে এসডিএম রোহিত বামহোরে এবং এসডিওপি অরবিন্দ সিংয়ের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযান গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে।
রবিবার রাজগড়েই আরও একটি উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। খিলচিপুরের জল মন্দিরে গডগঙ্গা নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আটকে পড়া সাধু ও ভক্তদের উদ্ধার করা হয়।
প্রবল বৃষ্টির জেরে রাজ্যের রাজধানী ভোপালেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে প্রায় সাত ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায় এবং যানজট তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বিশ্বাস সারং বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে আধিকারিকদের দ্রুত ত্রাণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিকাশি নালা পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভোপাল-বৈরসিয়া সড়কে ইতখেড়ি সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৈরসিয়া এলাকাতেও নদীর জল ফুলে ওঠায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে। মাণ্ডলায় নর্মদার জলস্তর কিছুটা কমলেও ছোট পুল এখনও জলের নীচে রয়েছে।
শাজাপুর, বিদিশা, আকোদিয়া, সালসালাই এবং রাইসেনেও বাড়িঘর, দোকানপাট ও সরকারি ভবনে জল ঢুকে পড়েছে।
নদী ও নালাগুলিতে জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন ও পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হলেও কৃষকদের দাবি, এই বৃষ্টি মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের জন্য উপকারী হবে।
—আইএএনএস



















