হায়দরাবাদ, ১০ আগস্ট (আইএএনএস): বাড়ির মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা ‘গুপ্তধন’ বা ‘গুপ্ত নিধুলু’ খুঁজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটি বিভিন্ন এলাকায় ১১ জনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
শামশাবাদ জোনের কমিশনার্স টাস্ক ফোর্স এবং রাজেন্দ্রনগর পুলিশের যৌথ অভিযানে এই প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা সরল-সহজ মানুষকে টার্গেট করে দাবি করত, মাটির নীচে পুঁতে রাখা গুপ্তধন শনাক্ত করার বিশেষ ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (টাস্ক ফোর্স) কে.এস. রাও জানান, অভিযুক্তরা প্রথমে বাড়ির মাটি খুঁড়ে সেখানে কয়লা ভর্তি একটি বস্তা এবং নকল সোনার প্রলেপ দেওয়া কয়েন পুঁতে রাখত। পরে তারা বাড়ির মালিককে জানাত, কয়লাকে সোনায় রূপান্তরিত হতে কিছুটা সময় লাগবে। এরপর সুযোগ বুঝে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেত।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মহম্মদ মুনাওয়ার, সৈয়দ আলি আশরাফ, মহম্মদ হাজি এবং মহম্মদ সলমন।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে দুটি চারচাকা গাড়ি, একটি অটোরিকশা, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন, ২৫টি নকল সোনার কয়েন, কয়লা, মাটি এবং পুজোর সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত মুনাওয়ার গাড়িতে ডেন্টিং ও পেন্টিংয়ের কাজ করত। সেই আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় সহজে টাকা উপার্জনের জন্য প্রতারণার পরিকল্পনা করে সে। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদেরও এই অপরাধে যুক্ত করে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজেন্দ্রনগর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৫১(২), ৬১(২) ধারার সঙ্গে ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে সম্প্রতি এমন অভিযোগও এসেছে যে, কিছু প্রতারক রাস্তা, গ্রাম এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় মাটির নীচে গুপ্তধন থাকার দাবি করছে। এরপর নানা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এই ধরনের প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস না করার এবং তাঁদের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে পুলিশ।
—আইএএনএস
























