নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার যাত্রাপথে দেশের তরুণ প্রজন্মের জীবন ও সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে শনিবার মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে যাঁরা নিয়মিত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, তাঁরাই সাফল্য পাবেন বলেও পড়ুয়াদের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) দিল্লির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে কৌশলগত সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আগামী ২০-৩০ বছরে বিশ্ব ঠিক কোন পথে এগোবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায় যেমন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, তেমনই নতুন সুযোগের দরজাও খুলে দেয়।
মোদি বলেন, “বিশ্ব বদলাবে, প্রযুক্তির অগ্রগতি হবে, শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং পেশার ধরনও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখবেন—যাঁরা শেখা চালিয়ে যাবেন, তাঁরাই সফল হবেন।”
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আগামী কয়েক দশকে বিভিন্ন শিল্প, পেশা এবং কাজের ধরন বদলে যেতে পারে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে ক্রমাগত শেখার অভ্যাসই তরুণদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
এদিনের সমাবর্তনে ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক-সহ ৩ হাজারেরও বেশি পড়ুয়ার হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়।
তরুণদের জাতীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রজন্ম তার সময়ের নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় এবং দেশের প্রতি তার নিজস্ব দায়িত্বও থাকে। আগামী ৩০-৩৫ বছর তরুণরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং যে কাজ করবেন, তা ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে ওঠার যাত্রাকে প্রভাবিত করবে।
তিনি বলেন, “আপনারা আগামী ৩০-৩৫ বছরে যা করবেন, তা ‘বিকশিত ভারত’-এর যাত্রাকে প্রভাবিত করবে। তাই আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তে এই বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত যে, তা দেশের কীভাবে উপকার করবে। দেশের কোন প্রয়োজন আপনার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূরণ হবে?”
তরুণ স্নাতকদের সামনে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে পেশাগত ও শিক্ষাগত জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে একটি বড় সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের গবেষণা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রিসার্চ ফেলোশিপের মাধ্যমে মেধাবী তরুণরা গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্কিম’ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশে বিজ্ঞান ও গবেষণায় নতুন গতি আনতে ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গবেষণা ক্ষেত্রে ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থের সংস্থান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
‘ওয়ান নেশন, ওয়ান সাবস্ক্রিপশন’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত ছোট শহরগুলিতেও কোনও অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা জার্নালগুলিতে প্রবেশাধিকার পাওয়া যাচ্ছে।
ভারতের তরুণ প্রতিভাদের কাছে জ্ঞান, গবেষণার উপকরণ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা ও অবদান রাখার মতো সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে কৃতী পড়ুয়াদের হাতে আইআইটি দিল্লির বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমিক সম্মান তুলে দেন মোদি। পুরস্কারের মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল, ডিরেক্টরস গোল্ড মেডেল, শঙ্কর দয়াল শর্মা গোল্ড মেডেল এবং পারফেক্ট টেন গোল্ড মেডেল।
এদিন আইআইটি দিল্লির সোনিপত ক্যাম্পাসে ‘পরম প্রজ্ঞা’ নামে এআই-চালিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটিং পরিকাঠামোরও ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং এবং বিভিন্ন শাখার সমন্বিত গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















