ইন্দোর, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকেন্দ্রিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন ভারতের প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সূর্য কান্ত। শনিবার তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হল সংলাপ। এর জন্য আইনি ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, সমস্যা ও চাহিদা তাঁদের নিজেদের ভাষা ও উপভাষায় বুঝতে হবে।
‘এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু জাস্টিস’ শীর্ষক দু’দিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সম্মেলনের ‘ইউনাইটেড ভয়েস’ এবং ‘স্ট্রংগার টুমরো’—এই দুটি ভাবনা বিচার ব্যবস্থায় সংলাপ, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।
তিনি বলেন, এই তিনটি নীতিকে শুধুমাত্র স্লোগান হিসেবে দেখলে চলবে না। নাগরিকদের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থার যোগাযোগ ও কাজের পদ্ধতিতেও এগুলির প্রতিফলন থাকা জরুরি।
ইন্দোরের সঙ্গে দেবী অহল্যাবাইয়ের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, অহল্যাবাই কৃষক, বিধবা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি দেখা করতেন। তাঁর সময়ে শাসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও বাধা ছিল না। তাই ইন্দোরে এই সম্মেলন আয়োজন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, মানুষের সমস্যার প্রতি সত্যিকার অর্থে সাড়া দিতে পারে এমন ন্যায়বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর তখনই তৈরি হতে পারে, যখন প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য আগে শোনা হবে।
তিনি বলেন, “শুধু আইন দিয়ে কখনও ন্যায়বিচারে মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়নি; এর শুরু হয় কথোপকথন দিয়ে। ন্যায়বিচার দেওয়ার আগে মানুষকে অনুভব করতে হবে যে তাঁদের কথা শোনা হয়েছে।”
প্যারালিগ্যাল স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, স্থানীয় সমস্যার সমাধান স্থানীয় স্তরেই খুঁজে বের করতে হবে। আর সেই সমস্যাগুলি বুঝতে হলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা জরুরি।
আইনি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয় ভাষা ও উপভাষা বোঝার উপর জোর দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সাধারণ মানুষের ভাষায় তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে এবং তাঁদের নিজেদের কথায় সমস্যাগুলি না শুনলে প্রকৃত সমাধান তৈরি করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আপনি যদি তাঁদের ভাষায় যোগাযোগ না করেন এবং সাধারণ মানুষের নিজেদের কথা শুনে তাঁদের উদ্বেগ সত্যিকার অর্থে না বোঝেন, তাহলে কীভাবে সমাধান তৈরি করবেন?”
বিচারপতি সূর্য কান্ত আরও বলেন, সংলাপ একতরফা হতে পারে না। ন্যায়বিচার ব্যবস্থা শুধু নিজেদের সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে না, একইসঙ্গে মানুষের কথা শুনবে এবং তাঁদের সমস্যাগুলিও বোঝার চেষ্টা করবে।
৮ ও ৯ আগস্ট এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি, নয়াদিল্লি, মধ্যপ্রদেশ স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি, জবলপুর এবং মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের যৌথ উদ্যোগে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সম্মেলনে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব, কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অর্জুন রাম মেঘওয়াল, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা, লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির আধিকারিক, বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত রয়েছেন।
ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির প্যাট্রন-ইন-চিফ হিসেবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং অন্যান্য বিচারপতিরা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আইনি সহায়তা আরও শক্তিশালী করা, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, সম্প্রদায়ভিত্তিক বিরোধের সমাধান এবং ন্যায়বিচারকে আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে।



















