নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে পাশ হয়েছে। তাই সেটিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে’ যুক্ত না করে অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ রাহুল গান্ধী লেখেন, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে রিজিজুর থেকে বিষয়টি ভালো আর কে জানবেন? ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ বিল কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে ইতিমধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, তিন বছর পরেও সেই আইন কেন কার্যকর করা হয়নি এবং এখন কেন সেটিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যুক্ত করা হচ্ছে?
রাহুল আরও বলেন, “২০২৩ সালের আইন কার্যকর করুন। কোনও শর্ত ছাড়াই।”
এর আগে মহিলাদের স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজিজু বলেছিলেন, কংগ্রেসের এখন সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করতে কোনও অসুবিধা থাকা উচিত নয়।
রাহুল শুক্রবার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে তাঁর বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন। বৃহস্পতিবারের ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বেও তিনি বলেছিলেন, মহিলারা নিজেদের কথা স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে না পারলে কোনও দেশই তার প্রকৃত সম্ভাবনা অর্জন করতে পারে না। সমাজে মহিলাদের কণ্ঠস্বরকে আরও বেশি জায়গা দেওয়া এবং তাঁরা যাতে নিজেদের ইচ্ছামতো এগিয়ে যেতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করার ওপর জোর দেন তিনি।
রাহুলের মতে, মহিলাদের নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে না পারার প্রভাব দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপরও পড়ে। মহিলা ক্ষমতায়নকে শুধু ব্যবসা বা রাজনীতিতে সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাড়ি, পরিবার ও জনপরিসরেও তাঁদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং চলাফেরার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর জবাবে রিজিজু রাহুলের বক্তব্যকে কংগ্রেসের অবস্থানে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মহিলাদের বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় ‘স্পষ্ট পরিবর্তন’ দেখা যাচ্ছে এবং এখন তিনি আশা করছেন, কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণ বিলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করবে।
ভারতের আইনসভাগুলিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব এবং মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই দুই নেতার এই বক্তব্য সামনে এল।
২০২৩ সালে সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইন, যা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নামেও পরিচিত, পাশ হয়। এই আইনে লোকসভা, রাজ্য বিধানসভা এবং দিল্লি বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ করা হয়েছিল। ২০১১ সালের জনগণনা ব্যবহার করে দ্রুত সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রস্তাব ছিল ওই বিলের অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি লোকসভায় পাশ হয়নি।
—আইএএনএস



















