মুম্বই, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে এবং তাঁর গোষ্ঠীর সাংসদদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। শিন্দেকে প্রধানমন্ত্রী নাকি “ভয় পেয়ো না, আমি তোমার পাশে আছি” বলে আশ্বস্ত করেছেন—এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য আসলে কার প্রতি ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সময়ে শিবসেনার নাম ও নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্ধব বলেন, শিন্দে আগে দিল্লিতে গেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতেন। এখন তাঁদের ‘বস’ বদলে গিয়েছে এবং তাঁরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করছেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
উদ্ধব প্রশ্ন তোলেন, “ভয় পেয়ো না, আমি তোমার পাশে আছি”—এই বার্তার অর্থ কী? এই বার্তা কি সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া কোনও হুমকি? নাকি অমিত শাহ, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ অথবা প্রশাসনের উদ্দেশে? প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট করতে হবে তিনি আসলে কাকে এই বার্তা দিয়েছেন।
শিবসেনার নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি চলার সময়েই এই বৈঠক হয়েছে বলে উল্লেখ করে উদ্ধব বলেন, “আমাদের মামলা যখন শুনানি চলছে, তখন প্রধানমন্ত্রী জেন জেড-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেননি, অথচ যাঁদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে দেখা করে ভয় না পেতে বলছেন। বিষয়টি অত্যন্ত আপত্তিকর।”
এই বার্তাটি শুধু সাধারণ মানুষের নজরে আসা উচিত নয়, সুপ্রিম কোর্টেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, এই আশ্বাস কি বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য দলবদলকারীদের জন্যও একটি খোলা বার্তা—যে তাঁরা দলত্যাগ করলেও কোনও পরিণতির ভয় থাকবে না—সেই প্রশ্নও তোলেন উদ্ধব।
তিনি বলেন, এই সংঘাত আর শুধু শিবসেনার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার জাতীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। “বিশ্বাসঘাতকতার ভাইরাস গণতন্ত্রের জীবন কেড়ে নিচ্ছে”—মন্তব্য করে সংবিধান ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত দেশের নাগরিকদের এই ধরনের রাজনৈতিক প্রবণতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্ধব জানান, এই ঘটনাগুলি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার পরও শিন্দে গোষ্ঠী কেন এতটা উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতও শিন্দে গোষ্ঠীর সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করেন। সংসদে লাগাতার অচলাবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে যাওয়ার সময় না পেলেও শিন্দে গোষ্ঠীর নেতাদের আপ্যায়ন করার সময় পাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাউত লেখেন, “বিশ্বাসঘাতক সাংসদদের জন্য ফাফড়া, ধোকলা ও জিলেপি দিয়ে পার্টি করার সময় প্রধানমন্ত্রীর আছে, কিন্তু সংসদে পা রাখার সময় নেই।” এই বৈঠককে তিনি “জনগণ ও সংবিধানের প্রতি অপমান” বলে অভিহিত করেন।
এই রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছে। উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন, যার মাধ্যমে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে শিন্দে গোষ্ঠীকে শিবসেনার সরকারি নাম ও নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয়েছিল।
সিবাল যুক্তি দেন, রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে দলীয় পরিচয় নির্ধারণের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হলে তা রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে।



















