নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ২০২৩ সালের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ এবং সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থার অধীনেই মহিলা সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
এদিকে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে দ্রুত ডিলিমিটেশন করার প্রস্তাব নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল আনা হয়েছিল। তবে লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি।
রিজিজু জানান, ২০২৩ সালের ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ অর্থাৎ সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। তবে এই বিধান কার্যকর হবে ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং ২০২৩ সালের পর প্রকাশিত জনগণনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে।
এক্স-এ রিজিজু লেখেন, “রাহুলজি, আপনি খুব ভালো করেই জানেন যে, লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইন, ২০২৩ বা নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ডিলিমিটেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং ২০২৩ সালের পর প্রকাশিত জনগণনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের পর প্রকাশিত জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি এগোতে হবে।
রিজিজুর বক্তব্য, ২০২৬ সালের পর জনগণনার তথ্য প্রকাশের কাজ বর্তমানে চলছে। তবে জাতিভিত্তিক জনগণনা যুক্ত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে। এর ফলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হতে পারে এবং তা ২০৩৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে কার্যকর নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে দ্রুত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, সর্বশেষ উপলব্ধ ও প্রকাশিত জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
রিজিজু বলেন, “২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে সর্বশেষ উপলব্ধ ও প্রকাশিত জনগণনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে যত দ্রুত সম্ভব ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।”
মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রিজিজু জানান, ২০২৬ সালের ডিলিমিটেশন বিলের মাধ্যমে এই সংরক্ষণ কার্যকর করার পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল। কিন্তু এই উদ্দেশ্যে আনা সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬ লোকসভায় পরাজিত হয়।
রাহুল গান্ধী এদিন এর আগে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছিলেন, ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ বিল কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থন-সহ সর্বসম্মতভাবে সংসদে পাস হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার বিষয়টির সঙ্গে সরকার অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডিলিমিটেশনকে যুক্ত করছে, যদিও আইনটির প্রতি রাজনৈতিক দলগুলির ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
রাহুলের ওই বক্তব্যের পরই রিজিজু পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। দুই নেতার মধ্যে এক্স-এ পরপর পোস্ট ঘিরে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার সময়সীমা এবং সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল রিজিজুর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেছিলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সংসদে সমর্থন করতে কংগ্রেসের কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
______



















