মুম্বই, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মহানগর গ্যাস লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মুম্বইয়ের দহিসর থানার পুলিশ। অভিযুক্তরা গ্যাসের বিল আপডেট করার নাম করে ভুক্তভোগীর মোবাইলে একটি ক্ষতিকর ফাইল ডাউনলোড করিয়ে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪.৯৮ লক্ষ টাকা সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ফোন করে নিজেদের মহানগর গ্যাস লিমিটেডের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর তারা জানায়, ভুক্তভোগীর গ্যাসের বিল আপডেট করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার অজুহাতে তাঁকে মোবাইলে একটি ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়।
ভুক্তভোগী ওই ফাইল ডাউনলোড করার পরই অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ডিভাইসে প্রবেশাধিকার পেয়ে যায় এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪.৯৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, ব্যাঙ্কের লেনদেনের নথি পরীক্ষা এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের সন্ধান পান।
গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের নাম আয়ুষ রাজেশ গুপ্ত এবং অঙ্কিত সঞ্জয় তিওয়ারি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার টাকা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঘোরানোর জন্য অভিযুক্তরা ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করত।
গ্রেফতারের পর অভিযুক্তরা একই ধরনের আরও কোনও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দহিসর থানার পুলিশ নাগরিকদের অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে। আধিকারিকরা সতর্ক করে বলেছেন, গ্যাসের বিল আপডেট, কেওয়াইসি যাচাই বা অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার নামে ফোন, মেসেজ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাঠানো কোনও ফাইল ডাউনলোড করা উচিত নয়।
অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো সন্দেহজনক লিঙ্কেও ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
ইউটিলিটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি সেজে সাইবার প্রতারণার ঘটনা বাড়তে থাকায় এই গ্রেফতারির ঘটনা সামনে এল। এর আগে ৬ আগস্ট একই ধরনের একটি ঘটনায় নবি মুম্বইয়ের এক পরিবেশকর্মীর কাছ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকারও বেশি প্রতারণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, বি এন কুমার নামে ওই ব্যক্তিকে প্রতারকরা মহানগর গ্যাসের প্রতিনিধি সেজে ফোন করে। তার আগে তাঁকে একটি মেসেজ পাঠিয়ে বলা হয়েছিল, গ্যাসের বিল বকেয়া থাকার কারণে তাঁর বাড়ির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
পরে এক ব্যক্তি ফোন করে নিজেকে মহানগর গ্যাসের কর্মী বলে পরিচয় দেয় এবং জানায়, আগের একটি বিলের পেমেন্ট সংস্থার সিস্টেমে আপডেট হয়নি। এরপর প্রতারক একটি হোয়াটসঅ্যাপ লিঙ্ক পাঠায়, যা দেখতে সরকারি পেমেন্ট পোর্টালের মতো ছিল। সেখানে মাত্র ১২ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে দেখানো হয়।
ওই সামান্য টাকা পরিশোধের অজুহাতে প্রতারক কুমারকে একটি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে এবং ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। ডেবিট কার্ড ও ইউপিআই-তে পেমেন্টের সুবিধা নেই বলে তাঁকে বোঝানো হয়েছিল।



















