নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ না পেলে কোনও দেশই প্রকৃত উন্নতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু কংগ্রেসকে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিঃশর্তভাবে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে রিজিজু বলেন, মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এটি ইতিবাচক বার্তা বলে মনে হচ্ছে। মহিলাদের বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মানসিকতায় স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এখন আশা করি, কংগ্রেস মহিলা সংরক্ষণ বিলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করবে।”
শুক্রবার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের মহিলাদের শক্তি ও সম্ভাবনা অনেকটাই আটকে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের নিজেদের মতামত প্রকাশের আরও বেশি স্বাধীনতা ও পরিসর দেওয়া প্রয়োজন। বৃহস্পতিবারের ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে একই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
রাহুল বলেন, মহিলারা নিজেদের কথা স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে না পারলে কোনও দেশ সফল হতে পারে না। তাঁর মতে, মহিলাদের মতামত ও সৃজনশীলতার পূর্ণ প্রকাশ ছাড়া ভারতও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে এবং দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, মহিলাদের ক্ষমতায়নকে শুধুমাত্র ব্যবসা বা রাজনীতিতে সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বাড়ি, পরিবার এবং জনপরিসরেও তাঁদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ এবং স্বচ্ছন্দে চলাফেরার সুযোগ থাকা জরুরি।
রাহুলের বক্তব্য, মহিলাদের এমন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত যা তাঁদের আশপাশের অনেকেই হয়তো মেনে নেবেন না। পরিবারের মধ্যেও বাবা-মা, স্বামী, ভাই-বোনের মতামতকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা তাঁদের থাকতে হবে। দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং মহিলাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতে আইনসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই রাহুল ও রিজিজুর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইন, তথা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হয়। এই আইনে লোকসভা, রাজ্য বিধানসভা এবং দিল্লি বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
এদিকে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার সঙ্গে যুক্ত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়েও সরকার বিরোধীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার রিজিজু ফোনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পুনরায় সংসদে পেশ করার বিষয়ে সমর্থন চান বলে সূত্রের খবর।
চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিষয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে রিজিজুর এটি তৃতীয় দফার আলোচনা বলে সূত্র জানিয়েছে। বিরোধীদের সমর্থন নিয়ে দ্রুত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল পুনরায় পেশ করা গেলে মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নের পথও ত্বরান্বিত হবে বলে রিজিজু দাবি করেন।
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশনে এপ্রিলে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬ লোকসভায় পাশ করানো সম্ভব হয়নি। রিজিজু রাহুল গান্ধীকে জানান, মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়িত না হলে মহিলাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
—আইএএনএস



















