ইটানগর, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): অরুণাচল প্রদেশের লংডিং জেলায় অসম রাইফেলসের কাছে আত্মসমর্পণ করল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম (ইন্ডিপেন্ডেন্ট) বা ইউএলএফএ-আই-এর চারজন হার্ডকোর ক্যাডার। আত্মসমর্পণের সময় তারা অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। শনিবার এক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, লংডিং জেলার চুপখাও ট্র্যাক এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি অভিযানের মাধ্যমে চার জঙ্গির আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লাগাতার নজরদারি, সুনির্দিষ্ট অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক যোগাযোগ ও বোঝানোর প্রচেষ্টার ফলেই তারা অস্ত্র ছেড়ে হিংসার পথ পরিত্যাগ করে মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।
আত্মসমর্পণের সময় চার ক্যাডার চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। তাদের আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে ওই অঞ্চলে ইউএলএফএ-আই-এর সক্রিয় জঙ্গি কার্যকলাপের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেন, এই অভিযান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতাকে আরও একবার তুলে ধরেছে। নিরাপত্তা বাহিনী একদিকে যেমন কঠোর অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে ভুল পথে চলে যাওয়া যুবক ও জঙ্গিদের হিংসার পথ ছেড়ে শান্তি ও উন্নয়নের পথে ফিরে আসতে উৎসাহিত করতে লাগাতার যোগাযোগ ও জনসংযোগ কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছে।
এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়ভাবে কাজ করে চলেছে। চার ক্যাডারের এই আত্মসমর্পণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জঙ্গিদের আস্থা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি, শান্তি ও উন্নয়নের পথে ফিরে এলে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ রয়েছে—এই বার্তাও আরও জোরালো হয়েছে।
এই আত্মসমর্পণের ফলে ওই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় অন্যান্য জঙ্গিদের কাছেও হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরে আসার সুযোগের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যাবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।
এদিকে, সম্প্রতি অসমের তিনসুকিয়া জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো একটি যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ ইউএলএফএ-আই-এর দুই সন্দেহভাজন ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়। আধিকারিকদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাগুন এলাকায় অসম পুলিশ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সহযোগিতায় অভিযান চালায়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে পানিটোলার বাসিন্দা ২৭ বছরের হুমেনজ্যোতি বড়ুয়া ওরফে সিয়র অসম এবং বাঘজানের বাসিন্দা ৩০ বছরের পাপু মোরান ওরফে মনোজ অসম। পুলিশের দাবি, দু’জনই নিষিদ্ধ সংগঠনটির স্বঘোষিত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট।
আধিকারিকদের মতে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি অরুণাচল প্রদেশের জয়রামপুর হয়ে মায়ানমার থেকে অসমে প্রবেশ করে পরে তিনসুকিয়ার দিকে যায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাগুন বাজারে একটি সুইফট গাড়ি আটক করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে দুটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একে সিরিজের ১৭২ রাউন্ড গুলি, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ব্যাকপ্যাক, জঙ্গলে দীর্ঘদিন থাকার জন্য খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী, সিরিঞ্জ এবং ওপিওয়েড-ভিত্তিক ওষুধ-সহ একটি মেডিকেল কিট এবং অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
আধিকারিকরা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে তিনসুকিয়া শহরে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে হামলা চালানোর জন্য ওই দু’জনকে ইউএলএফএ-আই-এর পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। হামলার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া বলে দাবি তদন্তকারীদের।



















