শিমলা, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় শনিবার ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। টিসা-বৈরাগড় সড়কে একটি বেসরকারি যাত্রীবাহী বাস প্রায় ১০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ও আহতদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা এবং তাঁরা চাম্বা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। মৃতদের মধ্যে বাসের চালক ও কন্ডাক্টরও রয়েছেন। আহতদের টিসা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী ছিলেন। চাম্বার পুলিশ সুপার বিজয় সাকলানি জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, শর্মা ট্রাভেলার্সের মালিকানাধীন বাসটি শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ বৈরাগড় থেকে চাম্বার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর চালুজ মোড়ের কাছে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে প্রায় ১০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি বাঁক নেওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিচের রাস্তার ওপর গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়ায় আহত ও মৃতদের উদ্ধার করতে প্রশাসনকে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দল পৌঁছলে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার হয়।
রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির অন্যতম চাম্বায় যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কম এবং পরিষেবার ঘনত্বও কম হওয়ায় অনেক সময় বাসগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় হয়। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
হিমাচল প্রদেশে অতীতে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার বাস এবং চালকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের অভাব এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে বেসরকারি বাসগুলিও অনেক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
যে এলাকায় শনিবারের দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটিও অতীতে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ দুর্ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
—আইএএনএস


















