নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ আগস্ট: রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল ট্রান্সলেট প্ল্যাটফর্মে চাকমা ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তার জন্য ৫০ হাজার চাকমা ভাষা শব্দের ডাটাবেস তৈরীর কাজ চলছে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে প্রথম রাজ্যভিত্তিক চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, বর্তমান সরকার চাকমা ভাষা সহ অন্যান্য সকল সংখ্যালঘু অংশের মানুষের ভাষার উন্নয়নে প্রয়াস নিয়েছে। তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকেই রাজ্যে চাকমা লিপি রয়েছে। চাকমা ভাষায় বহু বই, ম্যাগাজিন ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি চাকমা লিপি চর্চা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি থেকে শুরু করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী চাকমা ভাষা সংরক্ষণের জন্য সকলকে সংকল্পবদ্ধ হতে শপথবাক্য পাঠ করান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা আমাদের পরিচয়। আমাদের রাজ্যে মোট ১৯টি জনজাতি জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের নিজ নিজ কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ভাষা রয়েছে। এর মধ্যে চাকমা ভাষা অন্যতম। সংবিধান আমাদের নিজ নিজ ভাষা, সংস্কৃতি ও শিক্ষা প্রসারের জন্য অধিকার দিয়েছে। রাজ্য সরকার চাকমা ভাষার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এ ভাষার সংরক্ষণে চাকমা ভাষাভাষীদের আরও সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষাবর্ষে ১২৩টি সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা লিপিতে পঠন পাঠন চলছে। ৪ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী এবং ১৭২ জনের বেশি চাকমাভাষী শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। এসসিইআরটি-র মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও দ্বাদশ স্তর পর্যন্ত চাকমা ভাষায় পাঠ্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, চাকমা ভাষা উপদেষ্টা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা। ককবরক ভাষার উন্নয়ন উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন বিধায়ক ড. অতুল দেববর্মা এবং চাকমা কমিউনিটির রাজ্য কারবারি ও প্রধান সমাজপতি শান্তিবিকাশ চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দ হরি জমাতিয়া।
উপস্থিত ছিলেন এসসিইআরটি’র অধিকর্তা এল ডার্লং সহ বহু চাকমাভাষী ছাত্রছাত্রী। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা দপ্তরের ‘সদরক’ চাকমা লিটারেসি ম্যাগাজিনের আবরণ উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী সহ অতিথিগণ চাকমা ভাষার প্রসার ও উন্নয়নের অবদান স্বরূপ কুসুমকান্তি চাকমা, শান্তিপ্রিয় দেওয়ান এবং তিপরা চাকমা
স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে ৫ হাজার টাকা করে চেক ও মেমেন্টো প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে কুসুমকান্তি চাকমার পক্ষে সুখবিলাস চাকমা এই সম্মান গ্রহণ করেন। এছাড়া শান্তিপ্রিয় দেওয়ান ও তিপরা চাকমা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে জীবনবসু চাকমা এই সম্মান গ্রহণ করেন। আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য চাকমা নৃত্য ও সংগীত বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের আগে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। র্যালিতে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা, চাকমা কমিউনিটির সমাজপতি শান্তিবিকাশ চাকমা সহ চাকমা লিপি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও ছাত্রছাত্রীগণ অংশ নেয়। ককবরক এবং আন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা শিক্ষা দপ্তর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।



















