শ্রীনগর, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের কাছে দীর্ঘদিন দুঃসহ স্মৃতি হয়ে থাকবে। কারণ, এ বছর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলজুড়ে একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি (ক্লাউডবার্স্ট) ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ৩৫টি মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ১ আগস্ট কিশ্তওয়ার জেলার চাত্রু এলাকায় প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বন্যার জলে ভেসে আসে পাথর, উপড়ে পড়া গাছ এবং ধ্বংসাবশেষ। এতে বহু বাড়িতে ফাটল ধরে, দোকানপাট জলমগ্ন হয়ে পড়ে এবং একাধিক গাড়ি ভেসে যায়। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, গত চার দিনের মধ্যে শোপিয়ান জেলায় পরপর তিনটি মেঘভাঙা বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। বদরহামা, পেহলিপোরা এবং হিরপোরা এলাকায় বহু বাড়িঘর ও সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় একাধিক আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয় এবং বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালান।
সোমবার উত্তর কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার লোলাবের হিমলি এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কৃষিক্ষেতের পাশের একটি নালায় ভেসে গিয়ে ৫২ বছর বয়সি নাসিমা বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের ৩৫টি মেঘভাঙা বৃষ্টির মধ্যে ২২টিই ঘটেছে ১ জুন থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে। জুলাইয়ের শেষ এবং আগস্টের শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুঞ্চ, রাজৌরি, কাঠুয়া, ডোডা এবং কিশ্তওয়ার (চেনাব উপত্যকা) জেলা। এছাড়া শোপিয়ান, কুপওয়ারা, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ (পহেলগাম) এবং গাঁদেরবালেও একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
মেঘভাঙা বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে বহু বাড়িঘর, দোকান, স্কুল, সেচখাল ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেসে গেছে। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক-সহ গাঁদেরবালের কঙ্গন এবং পহেলগামের একাধিক সড়ক ধ্বংসাবশেষ ও নালা উপচে পড়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে প্রশাসন, পুলিশ, এসডিআরএফ এবং এনডিআরএফের দল উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার এবং আবহাওয়া দফতরের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে পাহাড় কাটা, বন উজাড়, ভঙ্গুর এলাকায় অতিরিক্ত নির্মাণ, প্রাকৃতিক জলনিকাশি ব্যবস্থার ক্ষতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং অনিয়মিত মৌসুমি বায়ুর আচরণ—সব মিলিয়ে এই ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে চলেছে। খাড়া পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে আর্দ্র বায়ু দ্রুত উপরে উঠে ঘনীভূত হয় এবং অল্প সময়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়।
ফলে বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে আকাশে মেঘ জমলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। কোথায়, কখন পরবর্তী মেঘভাঙা বৃষ্টি আঘাত হানবে, তা আগে থেকে নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। (আইএএনএস)



















