নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের দেওয়া আগের আশ্বাস থেকে সরে আসতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে দেশজুড়ে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পূর্বে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। তবে আগে থেকে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলির তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেয় আদালত।
মঙ্গলবার রাতে আইএএনএস-কে সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, কেন্দ্র আগে প্রকাশ্যেই আশ্বাস দিয়েছিল যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর করা হবে না এবং ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া মামলাগুলিও প্রত্যাহার করা হবে।
তাঁর অভিযোগ, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকার এখন বলছে বিষয়টি বিচারাধীন (সাব জুডিস), কারণ আদালত বিদ্যমান এফআইআরগুলির তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।”
সৌরভ দাস জানান, মঙ্গলবারের মধ্যেই লিখিত আশ্বাস পাওয়ার আশা ছিল তাঁদের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও লিখিত বার্তা আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কোথাও বলা হয়নি যে এফআইআর প্রত্যাহার করা যাবে না। এফআইআর প্রত্যাহারের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রয়েছে। সরকারের উচিত আন্দোলনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।”
সরকার প্রতিশ্রুতি পালন না করলে ছাত্রদের সমর্থনে ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও মধ্যপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনি পদক্ষেপের অভিযোগ উঠছে। শুরু থেকেই দেশজুড়ে সমস্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে সিজেপি।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। ওই সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানানো হয়।
পরবর্তীতে কেন্দ্রের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। এরপর সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে ৩৭ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে সিজেপি।
























