জয়পুর, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): আসন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিল আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)। রাজস্থানে তৃণমূল স্তরের নির্বাচনে এটি দলের প্রথম সংগঠিত অংশগ্রহণ হতে চলেছে।
সোমবার এআইএমআইএম জানিয়েছে, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও নগর স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে দল নিজস্ব প্রতীকেই প্রার্থী দেবে। পাশাপাশি কয়েকটি আসনে সমর্থিত প্রার্থীকেও সমর্থন করা হবে। লক্ষ্য, রাজস্থানের তৃণমূল স্তরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা।
দলীয় সূত্রে খবর, এআইএমআইএমের রাজ্য সভাপতি জামিল খান স্থানীয় নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির কাছে পাঠান। ওয়াইসি সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়ে রাজ্য ইউনিটকে পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরপর থেকেই দলের পদাধিকারী ও কর্মীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছেন। এক ভার্চুয়াল বৈঠকে জামিল খান জানান, নগর স্থানীয় সংস্থা ও পঞ্চায়েতি রাজ নির্বাচনে জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা ও তৃণমূলের ইস্যুকে সামনে রেখেই প্রচার চালাবে এআইএমআইএম।
তিনি বলেন, স্থানীয় সমস্যা, নাগরিক অধিকার এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে রাজস্থানের মানুষের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চায় দলটি। সেই লক্ষ্যেই তৃণমূল স্তরে সংগঠন সম্প্রসারণের রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে।
দলের মুখপাত্র আরিফ মহম্মদ জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু হবে। জেলা ও ওয়ার্ড স্তরে সাংগঠনিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও জনসংযোগসম্পন্ন প্রার্থীদেরই নির্বাচনে টিকিট দেওয়া হবে।
রাজস্থানের রাজনৈতিক মহলে এআইএমআইএমের এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন মূলত বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশেষ করে মুসলিম-অধ্যুষিত এবং সংখ্যালঘু অধ্যুষিত শহরাঞ্চলে এআইএমআইএম নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও বিজেপি ও কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে দলের প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। দলের একাধিক নেতা দাবি করেছেন, রাজস্থানের ভোটারদের একাংশ ঐতিহ্যগত বিজেপি-কংগ্রেস দ্বিমুখী রাজনীতির বাইরে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির খোঁজ করছেন।



















