নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): দেশে ১৮ থেকে ৭৫ বছর বয়সি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ১৫.১০ কোটি মানুষ মদ্যপানে আসক্ত, যা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নেশাজাতীয় পদার্থ। বৃহস্পতিবার লোকসভায় লিখিত উত্তরে এই তথ্য জানান কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রতিমন্ত্রী বি. এল. ভার্মা।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় সমীক্ষা অনুযায়ী মদের পরে প্রায় ২.৯০ কোটি মানুষ গাঁজা (ক্যানাবিস), ১.৯০ কোটি মানুষ ওপিওয়েড, ১.১০ কোটি মানুষ সেডেটিভ এবং প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ ইনহেল্যান্ট ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন, মাদকের চাহিদা কমানো, পুনর্বাসন এবং সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও জোরদার করছে। পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক সহায়তা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে তহবিল ছাড়ের পদ্ধতি সহজ করা হয়েছে এবং নেশামুক্তি পরিকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বি. এল. ভার্মা জানান, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর ড্রাগ ডিমান্ড রিডাকশন এবং অটল বয়ো অভ্যুদয় যোজনা-র আওতায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির ভিত্তি হল নয়াদিল্লির এআইআইএমএস-এর ন্যাশনাল ড্রাগ ডিপেনডেন্স ট্রিটমেন্ট সেন্টার পরিচালিত দেশের প্রথম জাতীয় মাদকাসক্তি সমীক্ষা।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ ওপিওয়েড ব্যবহারকারী, ৩০ লক্ষ মদ্যপ, ৩০ লক্ষ ইনহেল্যান্ট ব্যবহারকারী এবং ২০ লক্ষ গাঁজা সেবনকারী রয়েছে। এই পরিসংখ্যান সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।
মন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট শুরু হওয়া ‘নেশা মুক্ত ভারত অভিযান’, যা ২০২৩ সালের আগস্টে দেশের সব জেলায় সম্প্রসারিত হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২৯.৬৮ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে, যার মধ্যে ১১.৪৩ কোটির বেশি যুবক-যুবতী এবং ৮.০৫ কোটির বেশি মহিলা রয়েছেন। এছাড়া ১.১৭ লক্ষেরও বেশি ‘নেশা মুক্তি মিত্র’ এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২৮.২৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন হয়েছে এবং দেশের ২১.৭৩ লক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করতে এনএমবিএ 2.0 মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা নিকটতম নেশামুক্তি কেন্দ্রের অবস্থান জানতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৫৫টি নতুন জেলা নেশামুক্তি কেন্দ্র অনুমোদিত হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আরও ২১টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, ফলে দেশে নেশামুক্তি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে।



















