নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: ত্রিপুরার পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পশ্চিম ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। সাক্ষাতে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরব হন।
প্রথমেই দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার তিনটি ঐতিহ্যবাহী শক্তিপীঠ, বিলোনিয়ার যোগমায়া কালীবাড়ি, মুহুরীপুরের রাজরাজেশ্বরী কালীবাড়ি এবং সাব্রুমের দৈত্যেশ্বরী কালীবাড়ির সার্বিক পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রায় ২৯.৮৭ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এই প্রকল্পের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই ত্রিপুরা সরকারের পর্যটন দপ্তর কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রকে পাঠিয়েছে।
এর পাশাপাশি, অন্যতম খ্যাতিসম্পন্ন উনকোটি প্রত্নস্থলকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রস্তাবও তুলে ধরেন বিপ্লব কুমার দেব। তিনি জাতীয় সড়ক ২০৮ থেকে উনকোটি এএসআই সংরক্ষিত স্থল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে পর্যটকদের সুবিধার্থে উন্মুক্ত মঞ্চ, ল্যান্ডস্কেপিং, পর্যটক নিবাস, ইকো মিউজিয়াম, স্যুভেনির শপ, ক্যাফেটেরিয়া, আধুনিক শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, পার্কিং, অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি এবং অন্যান্য পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও জোর দেন। প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর এনওসি প্রদানের বিষয়েও তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বৈঠকে ত্রিপুরায় একটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া সার্কেল অফিস স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেন সাংসদ। তিনি জানান, বর্তমানে আইজল সার্কেলের অধীনে থাকা ১০টি কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে ৮টিই ত্রিপুরায় অবস্থিত। অথচ রাজ্যে এএসআই-এর সার্কেল অফিস না থাকায় সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই ত্রিপুরায় পৃথক এএসআই সার্কেল অফিস স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
এছাড়াও, প্রসাদ প্রকল্পের আওতায় মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত সম্পূর্ণ করার বিষয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিপ্লব কুমার দেব। তিনি জানান, ইতিমধ্যে কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রক এই প্রকল্পের জন্য ৩৭.৮০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। তবে বাস্তবায়নের সময় অতিরিক্ত উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আরও ১৭.৬১ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে অতিরিক্ত অর্থ দ্রুত মঞ্জুর করার বিষয়েও আলোচনা করেন। সম্প্রতি বিপ্লব কুমার দেবের আনীত সর্বশেষ গুচ্ছ দাবির প্রেক্ষিতে পত্র মারফত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনি।
ত্রিপুরার সমৃদ্ধ ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতির প্রসার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।



















