আগরতলা, ১৬ জুলাই: দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ার অভিযোগে ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন ঠিকাদারেরা। বিদ্যুৎ নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি)-র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা করল টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, আগামীকাল থেকে প্রথম পর্যায়ে আগরতলা সার্কেলের ঠিকাদারেরা কর্মবিরতিতে সামিল হবেন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে রাজ্যের অন্যান্য সার্কেলের ঠিকাদারেরাও একই আন্দোলনে যোগ দেবেন।
আজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। বারবার দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর আগে একই দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হলেও বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বকেয়া বিল দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবার ফের আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বের অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগমের এমডি নিজের ইচ্ছামতো কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের বিল দ্রুত পরিশোধ করলেও অধিকাংশ ঠিকাদারের বিল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন টেবিলে আটকে রাখা হচ্ছে। বিল প্রক্রিয়াকরণের শেষ পর্যায়ে এসে নানা অজুহাতে তা ফের আটকে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
তাদের দাবি, গত বছরের দুর্গাপূজোর আগে জমা দেওয়া একাধিক বিল এখনও পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বহু ঠিকাদার আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এমনকি লক্ষ লক্ষ টাকার বিল বকেয়া থাকলেও কোনো ঠিকাদার বিপদে পড়ে বা অসুস্থ হলে সামান্য কিছু বিল মিটিয়ে দেওয়ার আবেদন করলে তাতেও কর্ণপাত করেন না এমডি সাহেব। কর্মীদের বেতন, সরঞ্জামের মূল্য এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ মেটাতে গিয়ে তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগমের এমডি স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।
অ্যাসোসিয়েশনের স্পষ্ট বক্তব্য, যতদিন পর্যন্ত সমস্ত বকেয়া বিল পরিশোধ না করা হবে, ততদিন এই কর্মবিরতি চলবে। আন্দোলনের ফলে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।



















