News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • গোমতীর ভাঙনে দোরগোড়ায় নদী, ঘর-বাথরুম নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা; প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আবেদন অসহায় পরিবারের
Image

গোমতীর ভাঙনে দোরগোড়ায় নদী, ঘর-বাথরুম নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা; প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আবেদন অসহায় পরিবারের

আগরতলা, ১২ জুলাই: টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে গোমতী নদীর জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মেলাঘর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর ভাঙন ক্রমশ এগিয়ে এসে একাধিক পরিবারের বসতভিটার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান বিবি। তাঁর বসতবাড়ি ও বাথরুম এখন নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার মুখে।

চোখে জল নিয়ে নুরজাহান বিবি বলেন, “আমার বিল্ডিং ঘর ভেঙে যাবে, বাথরুমও নদীর বুকে চলে যাবে। অন্য কোথাও জমি কিনে নতুন বাড়ি করার মতো কোনো সামর্থ্য আমাদের নেই। আমার স্বামী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত, আমি হৃদরোগী। ছেলেদের সীমিত আয়ে কোনো রকমে সংসার চলছে। এখন ঘরটুকু হারালে আমরা কোথায় যাব?”

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টির ফলে গোমতী নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় নদীভাঙন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নুরজাহান বিবির বাড়ির সামনে নদীর পাড় ভেঙে পড়তে পড়তে এখন ঘরের একেবারে দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। যেকোনো মুহূর্তে পুরো বাড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলাঘর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নদীভাঙন রোধে বোল্ডার ফেলার কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্ষাকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থায়ী কাজ শুরু হওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
নুরজাহান বিবির পরিবার জানিয়েছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। স্বামী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এবং তিনি নিজেও হৃদরোগে ভুগছেন। ছেলেদের সীমিত আয়েই কোনো রকমে সংসার চলছে। এই অবস্থায় নতুন করে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

তাই রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং মেলাঘর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে অস্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন নুরজাহান বিবি। তাঁর আশা, স্থায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে অন্তত মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করা সম্ভব হবে। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সময়মতো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে শুধু নুরজাহান বিবির পরিবার নয়, নদীভাঙনের মুখে থাকা আরও কয়েকটি পরিবারও চরম বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Releated Posts

আগরতলা-গুয়াহাটি বন্দে ভারত চেয়ে রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব, সাব্রুম থেকে ট্রেন চালুর দাবি এখনও অধরা

আগরতলা, ২৭ আগস্ট: ত্রিপুরা ও আসামের মধ্যে দ্রুত ও উন্নত রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে আগরতলা-গুয়াহাটির মধ্যে বন্দে ভারত…

ByByTaniya Chakraborty Aug 27, 2026

পর্যটক আগমনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, বিধানসভায় তথ্য

আগরতলা, ২৭ আগস্ট: ত্রিপুরায় গত তিনটি অর্থ বছরে পর্যটক আগমনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিধানসভায় বিধায়ক অন্তরা সরকার…

ByByTaniya Chakraborty Aug 27, 2026

ধর্মনগরে আট দফা দাবিতে ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের মিছিল, জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি

ধর্মনগর, ২৭ আগস্ট: উত্তর ত্রিপুরা জেলার খেটে খাওয়া মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের দাবিতে সরব…

ByByTaniya Chakraborty Aug 27, 2026

বিধানসভায় জাতীয় পতাকা অবমাননা, বিতর্ক

আগরতলা, ২৭ আগস্ট: ত্রিপুরা বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শনকে জাতীয়তাবাদ ইস্যুতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় জনজাতি…

ByByTaniya Chakraborty Aug 27, 2026
Scroll to Top