News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • বিশালগড় জেলকাণ্ড: প্যারোল বঞ্চনার অভিযোগে মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার
Image

বিশালগড় জেলকাণ্ড: প্যারোল বঞ্চনার অভিযোগে মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার

আগরতলা, ৯ জুলাই: বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি অবস্থায় আত্মহত্যা করা বিশুরাই দেববর্মা ওরফে দিলীপ দেববর্মার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা অভিযোগ করেছেন, সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ বন্দিকে প্যারোলের আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র বা পিটিশন ফর্ম পর্যন্ত সরবরাহ করেনি। একই সঙ্গে মৃত বন্দির অসহায় পরিবারের জন্য ঘোষিত ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দ্রুত প্রদান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তিনি ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

গত ৮ জুলাই মানবাধিকার কমিশনের কাছে জমা দেওয়া দুই পাতার আবেদনপত্রে বিধায়ক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ভোরে বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বন্দি বিশুরাই দেববর্মা ওরফে দিলীপ দেববর্মা। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্যারোল না পাওয়া এবং সেই সংক্রান্ত মানসিক চাপই আত্মহত্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা আইনজীবী পৌষালী দত্ত, ব্যক্তিগত সচিব অসিত কুমার দাস, সমাজসেবী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি কুসরাংতি তিপ্রাসাকে সঙ্গে নিয়ে বিশালগড় সংশোধনাগার পরিদর্শন করেন। সে সময় তৎকালীন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট প্রসেনজিৎ দাস এবং সাব-জেলর নান্টু দাস তাঁদের জানান, ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা প্যারোল পাওয়ার যোগ্য নন।

তবে বিধায়কের অভিযোগ, এই দাবির পক্ষে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ কোনো লিখিত সরকারি নির্দেশ, আইন বা বিধি দেখাতে পারেনি। এমনকি পরবর্তীতে এ বিষয়ে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি নিয়ম বা নির্দেশিকা তাঁর কাছে পাঠানো হয়নি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, বন্দি বিশুরাই দেববর্মাকে প্যারোলের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র বা পিটিশন ফর্মই সরবরাহ করা হয়নি। বিধায়কের দাবি, এর ফলে একজন বন্দির আইনগত অধিকার খর্ব হয়েছে এবং বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

অন্যদিকে, উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মৃত বন্দির পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বিধবা স্ত্রী দুলপতী দেববর্মা, নাবালক পুত্র ও কন্যারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ভিলেজ চেয়ারম্যান এবং বিধায়কের পক্ষ থেকে বৈবাহিক সম্পর্কের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত পরিবারটি ঘোষিত ৪ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা মানবাধিকার কমিশনের কাছে মৃতের পরিবারের হাতে অবিলম্বে ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া, ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা এবং কোনো বৈধ সরকারি নির্দেশ ছাড়াই প্যারোলের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে বিশালগড় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
তবে উল্লেখ্য, প্যারোল সংক্রান্ত অনিয়ম, আবেদনপত্র না দেওয়া এবং আত্মহত্যার কারণ নিয়ে বিধায়কের চিঠিতে যে অভিযোগগুলি করা হয়েছে, সেগুলি এখনও পর্যন্ত মানবাধিকার কমিশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই বা প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে মানবাধিকার কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে।

Releated Posts

শিক্ষকের মারধরে গুরুতর অসুস্থ ছাত্র, সাব্রুমে আইনি পদক্ষেপের দাবি পরিবারের

সাব্রুম, ২৩ আগস্ট: শিক্ষকের মারধরে সাব্রুম বিদ্যাজ্যোতি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

খোয়াইয়ে বজ্রপাতে ২০-২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি, অল্পের জন্য রক্ষা পরিবার

আগরতলা, ২৩ আগস্ট: প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের জেরে খোয়াই পূর্বগণকি এলাকায় একটি বাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ লোক আদালতে ত্রিপুরার ৭ মামলার নিষ্পত্তি

আগরতলা, ২৩ আগস্ট: সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ লোক আদালতে ত্রিপুরার সাতটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। রবিবার সমাধান সমারোহ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026

নদীর জলে তলিয়ে গেল ৮ বছরের শিশু, উদ্ধারে তৎপরতা ঘিরে ক্ষোভ

বিশালগড়, ২৩ আগস্ট: নদীর জলে তলিয়ে নিখোঁজ ৮ বছরের এক শিশু। রবিবার বিকেলে বিশালগড় থানাধীন নবীনগর মুক্তুল হোসেন পাড়া…

ByByReshmi Debnath Aug 23, 2026
Scroll to Top