নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২ জুলাই: উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার বহুল আলোচিত মামলায় দীর্ঘ ১৫ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ভিকটিম পক্ষের পক্ষে রায় দিয়েছে ধর্মনগরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত। আদালত দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেকের তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
সিজেএম দেবলীনা কিলিকদারের আদালতে পিআরসি (ডাব্লিউ পি) ৭৯ অফ ২০২৫ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত অভিযুক্ত অমিত সিনহা ও অমর সিনহা (পিতা: অনিল সিনহা)-কে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১৭(২) ও ১১৫(২) ধারায়, ৩(৫) ধারার সঙ্গে পাঠ করে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায় অনুযায়ী, ১১৭(২) ধারায় প্রত্যেক অভিযুক্তকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া ১১৫(২) ধারায় আরও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা অনাদায়েও প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালত আদায় হওয়া মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ আহতদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ধর্মনগরের কালাছড়া রোডের মাশরুম ফার্ম সংলগ্ন মহাদেববাড়ি এলাকায় একটি বিবাদিত জমিতে মাটি ফেলার কাজ চলছিল। সেই সময় মৃত গৌরিশেখর সিনহার ছেলে উত্তম সিনহা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ, তাঁকে কর্দমাক্ত জলে ফেলে প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়। উত্তম সিনহাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসে আহত হন তাঁর ভাই গৌতম সিনহা এবং বৌদি মঞ্জু রানি সিনহা। ঘটনার পর ধর্মনগর থানায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তকারী অফিসার এসআই বিশ্বজিত দাস তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, তদন্তের তথ্য এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর আদালত এই রায় ঘোষণা করে।
রায় ঘোষণার পর ভিকটিম পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। অন্যদিকে, ধর্মনগরে এই রায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশের মতে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।



















