গ্যাংটক, ৩০ জুন (আইএএনএস): নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে সিকিমের গ্যাংটক থেকে ১৯ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের সঙ্গে দিল্লি পুলিশ-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ধৃতের নাম মহম্মদ আরজু। তিনি গ্যাংটকের নাম নাং এলাকার বাসিন্দা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর সদর থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘জিআইএম (গ্রুপ অব ইসলামিক মেম্বার্স)’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে উগ্রপন্থী প্রচার, মতাদর্শে প্রভাবিত করা এবং আইএসের হয়ে সদস্য সংগ্রহের কাজ চলছিল বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্যাংটকের লোয়ার এমজি মার্গের নাম নাং রোড এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযানের সময় একই পরিবারের ছয় সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পাশাপাশি একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড এবং পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, মহম্মদ আরজুর স্যামসাং মোবাইল ফোনের ডিজিটাল পরীক্ষায় উগ্রপন্থা-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে কথিত জিআইএম গ্রুপের চ্যাট, জঙ্গি সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা এবং ভারত ও পাকিস্তানে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, মোবাইলে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে হওয়া কিছু কথোপকথনের রেকর্ডও পাওয়া গেছে, যা তদন্তকারীদের মতে উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রতি অভিযুক্তের সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে। তবে এই সমস্ত ডিজিটাল তথ্য এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে একই পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্য — মহম্মদ কালিম (৫৮), মহম্মদ তালিম (২৬), মহম্মদ আরিফ (২২), মহম্মদ আলিম (২৫) এবং মহম্মদ এরসাদ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক প্রমাণ মেলেনি। পরে তাঁদের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন সদর থানায় মহম্মদ আরজু ও অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), বেআইনি কার্যকলাপ (নিবারণ) আইন (ইউএপিএ) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কথিত এই নেটওয়ার্কের বিস্তার, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত করছেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ মিংইউর টেম্পো নাডিক।



















