নয়াদিল্লি, ৩০ জুন (আইএএনএস) : পরবর্তী প্রজন্মের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রক ও বিভাগের সচিবদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সেবা তীর্থে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কার, ব্যবসা করার সুবিধা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করে তোলার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
চলতি অর্থবর্ষে (২০২৬-২৭) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত সচিবদের এটি ছিল প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক। সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সমন্বিত করার লক্ষ্যেই এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর দুই প্রধান সচিব পি. কে. মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস। আলোচনায় মূলত দুটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়।
প্রথমত, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডিরেগুলেশন) ও অন্যান্য সংস্কার, যার লক্ষ্য ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সুবিধাজনক করে তোলা। দ্বিতীয়ত, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের স্বনির্ভরতা আরও জোরদার করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের সচিবরা তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাবনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চলমান কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন ক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ও পরিষেবা প্রদান আরও উন্নত করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সব মন্ত্রক ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বিভাগীয় বিভাজন দূর করে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সমন্বিত পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পিএম গতিশক্তি প্ল্যাটফর্মের আরও ব্যাপক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
তিনি সরকারি প্রকল্পগুলির বাস্তব ফলাফল এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন। সরকারি প্রকল্পের সুফল দ্রুত এবং দৃশ্যমানভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশের শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বৈঠক।
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার একাধিক মন্ত্রকে, যার মধ্যে রেল মন্ত্রকও রয়েছে, ‘৫২ সপ্তাহে ৫২টি সংস্কার’ কর্মসূচি চালু করেছে। প্রতিটি সংস্কারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বরাবরই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিমাপযোগ্য ফল অর্জনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। সেই লক্ষ্যেই এই পর্যালোচনা বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের অগ্রগতি মূল্যায়ন, বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং পারস্পরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সরকারের লক্ষ্য, প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে জনসেবা আরও উন্নত করা, নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো, শিল্পক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলা।
























