কলকাতা, ৩০ জুন (আইএএনএস): রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অভিযুক্ত ও নিগৃহীত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের আইনি সহায়তা দিতে ‘এক ডাকে অভিষেক’ নামে বিশেষ উদ্যোগের সূচনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী। এই কর্মসূচির জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় বিজেপির অত্যাচারের জেরে গৃহহীন, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়া কর্মীদের আইনি সহায়তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” হেল্পলাইন নম্বর: ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূলের দাবি, বিজেপি কর্মীদের হামলা ও অত্যাচারের মুখে দলের বহু কর্মী বাড়িছাড়া হয়েছেন। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের দাবি, কোনও বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুলিশের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরও কর্মী নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, নিপীড়িত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন “দুর্নীতিগ্রস্ত” তৃণমূল থেকে সরে এসেছেন।
এই প্রসঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক গোষ্ঠীর চিফ হুইপ এবং মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “ফোন করলেই যদি কর্মীরা দলের পাশে থাকত, তাহলে সংগঠনের প্রয়োজন হতো না। ফোন আর অনলাইন বৈঠক করেই উনি (অভিষেক) তৃণমূলকে শেষ করেছেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হলে তাঁদের কাছে যেতে হবে। আমরা সেটাই করব।”
বিদ্রোহী বিধায়কদের সমর্থনে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হওয়া ঋতব্রত ব্যানার্জী কটাক্ষ করে বলেন, “চার্টার্ড বিমানে যাতায়াতের জন্য যে অর্থ অপচয় হয়েছে, এবার সেই অর্থ যেন বিপদে পড়া কর্মীদের সাহায্যে ব্যয় করা হয়।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথমে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পরে তা গোটা রাজ্যে সম্প্রসারিত করা হয়।
তখন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় নতুন প্রেক্ষাপটে এই পুরনো কর্মসূচির মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা দলীয় কর্মীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।























