নয়াদিল্লি, ৩০ জুন (আইএএনএস): অযোধ্যায় রামমন্দির দর্শনের নির্ধারিত কর্মসূচির আগে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই-কে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগকে ঘিরে মঙ্গলবার রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, অজয় রাই এবং দলের এক প্রতিনিধিদলকে রামমন্দিরে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, রামমন্দিরে প্রণাম করা অপরাধ নয়, কিন্তু তদন্তাধীন একটি বিষয়কে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী অনিল রাজভর কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “এতে বিশেষ কিছু নেই। এঁদের সঙ্গে ৫০-৬০ জন সমর্থকও নেই। ওঁরা হতাশ। আদালত থেকে শুরু করে সব স্তরে রামমন্দির নির্মাণ আটকানোর চেষ্টা করেছিল। সেটা সকলেরই জানা।”
বিজেপি সাংসদ গোলাম আলী খাটানা বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। মন্দিরে যাওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু মন্দিরের ভিতরে রাজনীতি করা ঠিক নয়। চলমান তদন্তে হস্তক্ষেপ করাও অনুচিত।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা অভিষেক দত্ত এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “মনে হচ্ছে, অজয় রাই সেই ব্যক্তি যিনি একসময় নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ভোট চুরির মতো ঘটনায় তিনি হেরে যান। এখন যেমন রামমন্দিরের অনুদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।”
কংগ্রেসের দাবি, সোমবার রাতে অযোধ্যায় পৌঁছনোর পর অজয় রাইকে হোটেল পদ্মশ্রী প্যালেসে জেলা পুলিশ গৃহবন্দি করে রাখে।
মঙ্গলবার তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস সাংসদ ও নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের রামমন্দিরে দর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচির আগেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
একটি ভিডিও বার্তায় অজয় রাই বলেন, “আমরা ভগবান শ্রীরামের আশীর্বাদ নিতে অযোধ্যায় এসেছিলাম। পাশাপাশি রামমন্দিরে অনুদান আত্মসাৎ এবং জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে যে কলঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিষয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু শহরে পৌঁছনোর পর থেকেই আমাকে হোটেলেই আটকে রাখা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদান আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।



















