শিলং, ২৯ জুন (আইএএনএস বাংলা): ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলায় ৩০ জুন থেকে এক মাসব্যাপী বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটার যাচাই অভিযান শুরু হবে। সোমবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়।
জেলার ডেপুটি কমিশনার অভিলাষ বারনওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, জেলার ১,০২১টি ভোটকেন্দ্রে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের কাছে আগে থেকেই পূরণ করা স্ব-ঘোষণাপত্র (সেলফ-এনিউমারেশন ফর্ম) পৌঁছে দেবেন।
তিনি জানান, সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ৭ অক্টোবর প্রকাশ করা হবে।
ডেপুটি কমিশনার স্পষ্ট করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ভোটারদের কোনও ধরনের সহায়ক নথি জমা দিতে হবে না। শুধু সঠিকভাবে পূরণ করা স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দিলেই হবে।
বারনওয়াল বলেন, “প্রাথমিক গণনার সময় ভোটারদের শুধু পূরণ করা ফর্ম জমা দিতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফর্মের ভিত্তিতেই কাজ সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও জানান, অল্প কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ভোটারদের আশ্বস্ত করে ডেপুটি কমিশনার বলেন, বুথ লেভেল অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত ১১ ধরনের নথির তালিকার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ না রাখেন।
তিনি বলেন, “গির্জার শংসাপত্র হোক বা গ্রামের প্রধানের শংসাপত্র—সব ধরনের নথিই গ্রহণ করা হবে। পরে নির্বাচনী নথিভুক্তিকরণ আধিকারিক প্রতিটি মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
বারনওয়াল জোর দিয়ে বলেন, এই বিশেষ সংশোধন অভিযানের উদ্দেশ্য কোনও যোগ্য ভোটারকে বাদ দেওয়া নয়, বরং একটি নির্ভুল, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার তালিকা তৈরি করা।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দয়া করে ভয় পাবেন না। প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছে। একই প্রশ্ন শতবার করলেও আমরা উত্তর দিতে প্রস্তুত। তবে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, ভোটাররা এই প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত হেল্পলাইন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পারবেন।



















