মুম্বই, ২৯ জুন (আইএএনএস): পুনের লোহাগড় দুর্গে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের কথিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের হাতে আসা ডিজিটাল প্রমাণে ইঙ্গিত মিলেছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, মূল অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সি সিয়া গোয়াল কেতন আগরওয়ালকে খাদে ঠেলে ফেলার অভিযোগিত ঘটনার মাত্র ৩৪ মিনিট আগে তাঁর কথিত প্রেমিক ও সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীকে ফোন করেছিলেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ফোনালাপেই অপরাধ সংঘটিত করার আগে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় করা হয়েছিল।
দুই অভিযুক্তের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার পর এই তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শেষ ফোনকলটি এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণগুলির একটি এবং পুনে গ্রামীণ পুলিশের প্রযুক্তি নজরদারি দল সেটি খতিয়ে দেখছে।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, ফোনালাপের সময় সিয়া লোহাগড় দুর্গের একটি ভিউ পয়েন্টে নিজের অবস্থান সম্পর্কে চেতনকে জানান এবং আশপাশে অন্য কোনও পর্যটক না থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন, যাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনও বাধা না আসে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ নষ্ট করতে কয়েক মাসের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ইনস্টাগ্রাম চ্যাট এবং ভয়েস নোট মুছে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ। সাইবার বিশেষজ্ঞরা ফরেনসিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
পুলিশ উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যের সঙ্গে লোকেশন হিস্ট্রি, কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) এবং ইন্টারনেট আইপি লগ মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ সময়রেখা তৈরি করছে। এই প্রমাণ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩ ধারায় পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
পুলিশের দাবি, আগামী নভেম্বরে কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়া গোয়ালের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিয়া আর সেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চাননি। সেই কারণেই ১৮ জুন কেতনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় চেতন চৌধুরীকেও সহ-অভিযুক্ত করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে সিয়ার ভাই জানিয়েছেন, একটি ক্রিকেট ম্যাচে প্রথম চেতনের সঙ্গে সিয়ার পরিচয় হয়। পরে এক অভিন্ন বন্ধুর মাধ্যমে তাঁদের ফের যোগাযোগ হয় এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের দাবি, গত মে মাসের শেষের দিকেই হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের আরও সন্দেহ, ১৪ জুন একই স্থানে কেতনকে খাদে ঠেলে হত্যার প্রথম চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বেঁচে যান। তখন সিয়া দাবি করেছিলেন, সাপ দেখে ভয় পেয়ে ভুলবশত তিনি কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন।
চার দিন পরে, অর্থাৎ ১৮ জুন, দ্বিতীয়বার পরিকল্পনা কার্যকর করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, কেতন যাতে পালাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে চেতনও গোপনে ওই দম্পতির পিছু নিয়েছিলেন।
তদন্তকারী সূত্রের আরও দাবি, চেতন সিয়াকে অন্তত তিন বছর অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, যাতে তিনি কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন। কিন্তু এরই মধ্যে সিয়ার সঙ্গে কেতনের বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাঁদের ধারণা ছিল, কেতনের মৃত্যুর পর পারিবারিক শোকের কারণে কয়েক বছর সিয়ার বিয়ের প্রসঙ্গ উঠবে না। সেই সময়ে সিয়া স্বাধীনভাবে থাকতে পারবেন এবং চেতন নিজের কর্মজীবনে মনোযোগ দিতে পারবেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কেতন আগরওয়ালকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল বলে পুলিশের সন্দেহ।



















