নয়াদিল্লি, ২৯ জুন (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও ভারত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সেই অতিরিক্ত বোঝা চাপতে দেয়নি বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের বক্তব্য, অন্য অনেক আমদানিনির্ভর দেশ যেখানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রেশনিং বা কঠোর বিধিনিষেধের পথে হেঁটেছে, সেখানে ভারত সেই অতিরিক্ত ব্যয় সরকার এবং সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির স্তরেই বহন করেছে।
কেন্দ্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হলেও ভারত গৃহস্থদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে এত বড় মাত্রায় ভোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্য কোনও তুলনীয় অর্থনীতি নেয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল একাধিক দেশ মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ সংকটেও পড়ে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা শ্রীলঙ্কা ফের বাধ্যতামূলক পেট্রোল রেশনিং চালু করে এবং সরকারি ক্ষেত্রে চার দিনের কর্মসপ্তাহ কার্যকর করে।
পাকিস্তান জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা, কর্মসপ্তাহ কমানো এবং যানবাহনের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।
মায়ানমারে জোড়-বিজোড় নম্বরের গাড়ি চালানোর নিয়ম এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়। বাংলাদেশে তেল ডিপোগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ইথিওপিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রয়োজনীয় শিল্পে সীমাবদ্ধ রেখে টাইগ্রে অঞ্চলে বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
সরকার আরও জানিয়েছে, জাপান কৌশলগত মজুত ব্যবহার করে এবং জ্বালানিতে ভর্তুকি দেয়। দক্ষিণ কোরিয়া তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের মধ্যে ২২টি দেশ এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত জ্বালানি স্বস্তি দিতে ৯০০ কোটিরও বেশি ইউরো ব্যয় করে। জার্মানি জ্বালানির উপর কর কমায় এবং হাঙ্গেরি কৌশলগত মজুত ব্যবহার শুরু করে।
এমনকি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলিও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ডিজেলের দাম প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে এবং নাইজেরিয়াতেও পরিবহণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারের দাবি, যেসব দেশে বাজারের ওপরই পুরো বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নিউজিল্যান্ডে ডিজেলের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে পেট্রোলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক গ্যালন পেট্রোলের দাম পাঁচ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বক্তব্য, ভারত কোনও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি, গৃহস্থদের জন্য জ্বালানি রেশনিং চালু করেনি, কর্মসপ্তাহ কমায়নি, স্কুল বন্ধ করেনি বা যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। কেবল বাণিজ্যিক ও বাল্ক এলপিজি এবং ডিজেল ও বিমান জ্বালানির রপ্তানিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে গৃহস্থদের জ্বালানির সরবরাহ বজায় থাকে।
মন্ত্রকের দাবি, রান্নার গ্যাসের সরবরাহে প্রাথমিকভাবে কিছু চাপ তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। খুচরো জ্বালানি পাম্প খোলা ছিল এবং বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির তুলনায় ভারতে জ্বালানির খুচরো দামের বৃদ্ধি সবচেয়ে কম ছিল।
সরকার আরও জানিয়েছে, ২৫ জুন থেকেই বাণিজ্যিক ও বাল্ক এলপিজি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা ভারতের গত এক দশকের জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিনিয়োগ এবং কৌশলগত স্বনির্ভর নীতির সাফল্যেরই প্রতিফলন।



















