ইটানগর, ২৯ জুন (আইএএনএস বাংলা): টানা বর্ষণের জেরে অরুণাচল প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের ২৮টি জেলার মধ্যে অন্তত ১২টি জেলা বন্যায় বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুন থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের এক আধিকারিক জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কেয়ি পানিয়র জেলায় নিখোঁজ ৪৮ বছরের সৌরভ কুমার খারওয়ারের দেহ রবিবার পার্শ্ববর্তী পাপুম পারে জেলার হাওয়া ক্যাম্প এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে এক ৩৫ বছরের মহিলা এবং আরও এক মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এখনও এক নাবালক-সহ দু’জন নিখোঁজ রয়েছেন।
২৩ জুন থেকে অবিরাম বৃষ্টির ফলে কেয়ি পানিয়র জেলার ইয়াজালি সার্কেলে আকস্মিক বন্যায় প্রায় ২০টি বাড়ি ও আবাসিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জেলায় উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। একাধিক রাস্তা, সেতু ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন এখনও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে মুখ্যসচিব মনীশ গুপ্ত, পুলিশ মহাপরিচালক ড. এস.ডি. সিং জামওয়াল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত, চিকিৎসা পরিষেবা এবং অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে রয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)-এর পূর্বাভাস উদ্ধৃত করে পেমা খান্ডু জানান, ১ জুলাই পর্যন্ত অরুণাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, জল জমা, গাছ উপড়ে পড়া এবং সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে সীমান্ত সড়ক সংস্থা (বিআরও) মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিমিন-পোটিন সড়কটি পুনরায় চালু করেছে। প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পোটিন, ইয়াজালি, ইয়াচুলি, জোরাম এবং জিরোর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
এছাড়া ২৫ জুন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে কেয়ি পানিয়র জেলায় ত্রাণসামগ্রী, একটি উদ্ধারকারী নৌকা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) কর্মীদের পৌঁছে দেওয়া হয়।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে কেয়ি পানিয়র, পাপুম পারে, ক্রা দাদি, কুরুং কুমে, লোয়ার সুবনসিরি, কামলে, আপার সুবনসিরি, ইস্ট সিয়াং, লেপারাদা এবং লোয়ার সিয়াং।



















