কলকাতা, ২৯ জুন (আইএএনএস বাংলা): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরকে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। এবার এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।”
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরে হুমায়ুন কবীরের দেওয়া বক্তব্যের জেরে একাধিক ধারায় এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে জেতানোর উদ্দেশ্যেই হুমায়ুন কবীর সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর মুখ্যমন্ত্রী নন। দুর্বল প্রশাসনের সুযোগ নিয়ে এতদিন যা খুশি করেছেন, তা আর চলবে না।”
তিনি জানান, ২৬ জুনের ঘটনায় রেজিনগর থানায় ২১৯ ও ২২৬ নম্বর মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৫২, ১৯৬, ১৯৭, ২২৪, ২৯৯, ৩৫১(২), ৩৫২ এবং ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া শক্তিপুর থানায় পৃথকভাবে ১৭৬ ও ২২৬ ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এ ধরনের ভাষায় কথা বলার অধিকার তাঁকে কেউ দেয়নি। আমি নিশ্চিত করছি, এমন মন্তব্য আর করতে দেওয়া হবে না।”
হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রথম লক্ষ্য ছিল মুর্শিদাবাদের ভরতপুর, রেজিনগর ও নওদা এলাকার বিভিন্ন পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের নিজের দলে টানা। দ্বিতীয় লক্ষ্য, রেজিনগর আসনের উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে জেতাতে মুসলিম ভোট একজোট করার চেষ্টা করা।
তিনি বলেন, “রেজিনগর আসনে প্রায় ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। সেই ভোট একত্রিত করার জন্যই এই রাজনীতি করা হচ্ছে।”
হুমায়ুন কবীরকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে নিন, এভাবে কথা বলতে দেব না। ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করার আগে ২৫ বার ভাববেন। সংযত থাকুন এবং এই ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করুন।”
এছাড়া নাম না করেই সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান, ক্যানিংয়ের সওকত মোল্লা এবং ফলতার জাহাঙ্গির খানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন। তাঁর কথায়, “ভারতের সংবিধান ও আইনই শেষ কথা, কারও উসকানিমূলক বক্তৃতা নয়।”
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর দাবি, “৪ মে-র পর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যরা এলাকায় যেভাবে অশান্তি সৃষ্টি করেছেন, তার বিরুদ্ধেই আমি কথা বলেছি। এর জন্য যদি আমাকে গ্রেফতার করা হয়, তাতেও আমার আপত্তি নেই। আমি লড়াই করেই নতুন দল গড়েছি এবং জয়ী হয়েছি।”



















