নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জুন: তিন দিনব্যাপী ত্রিপুরা গ্লোবাল পাইনঅ্যাপেল ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ আজ নয়াদিল্লীতে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। উৎসবের শেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন দেশের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁরা প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং কৃষক, উদ্যোক্তা ও প্রদর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বি. এল. সন্তোষ এবং সুনীল দেওধর।
আনারস শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা সরকারি স্টলগুলিকে অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়। এরমধ্যে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন এবং আরএনজে অ্যাগ্রি-ক্লিনিক অ্যান্ড অ্যাগ্রিবিজনেস প্রাইভেট লিমিটেড। দ্বিতীয় পুরস্কার পায় নেরাম্যাক এবং তৃতীয় পুরস্কার লাভকরে ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ত্রিপুরার বিখ্যাত কুইন পাইনঅ্যাপেল-এর ভৌগোলিক নির্দেশক (জি আই) ট্যাগ-এর শংসাপত্র এক কৃষকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া। এ উপলক্ষে তাঁকে ২৫ হাজার টাকা নগদ পুরস্কারও দেওয়া হয়। এছাড়াও, আনারস চাষে অসামান্য অবদানের জন্য দুইজন প্রগতিশীল কৃষককে ‘সেরা পাইনঅ্যাপেল চাষি’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁদের প্রত্যেককে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।
উৎসবে আগত সকল দর্শনার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে ত্রিপুরার জিআই-স্বীকৃত ক্যুইন আনারসবিতরণ করা হয়। তাতে হাজার হাজার মানুষ এই বিশেষ স্বাদের আনারস উপভোগ করার সুযোগ পান।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এই অনুষ্ঠানগুলোতে নৃত্য, সঙ্গীত সহ নানা বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা উপস্থাপিত হয়েছে, যা দর্শকদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। এরফলে উৎসবের আনন্দ ও সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শনী, ক্রেতা-বিক্রেতার সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ত্রিপুরার পাইনঅ্যাপেল শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভ্যালু অ্যাডিশান, ব্র্যান্ডিং, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনাকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই উৎসব আবারও প্রমাণ করেছে যে, উন্নত মানের জিআই-স্বীকৃত ক্যুইন পাইনঅ্যাপেল উৎপাদনে ত্রিপুরা দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্য।



















