আগরতলা, ২৮ জুন: পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুরস্থিত জিরানিয়া ল’ কলেজে “ভারতে নারীর অধিকার সংরক্ষণ: সাংবিধানিক, আইনি ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের সেমিনার হলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা নারীর অধিকার রক্ষায় সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং সামাজিক সচেতনতার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট ল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মিল্টন কুমার আচার্য।
অনুষ্ঠানের সূচনায় কলেজের অধ্যক্ষ ড. রাজ কুমার শ্রীবাস্তব কলেজের সম্পাদক ড. বিষ্ণুপদ দাসের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করে শোনান। এরপর তিনি উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের স্বাগত জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আচার্য বলেন, ভারতের সংবিধান নারীদের অধিকার সুরক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান প্রদান করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের ১৫(৩) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে। ৩৯ অনুচ্ছেদে সমকাজে সমবেতনের নীতি এবং ৪২ অনুচ্ছেদে ন্যায্য ও মানবিক কর্মপরিবেশের পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২১ অনুচ্ছেদে নারীর জীবন ও মর্যাদার অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইন, পণবিরোধী আইন, মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, মেডিক্যাল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি আইন, বিবাহিত নারীর ভরণপোষণের অধিকার এবং ২০০৫ সালের সংশোধিত হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে নারীর সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন।
ড. আচার্য ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে পঞ্চায়েত ও স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থায় নারীদের সংরক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নারী শক্তি অধিনিয়ম সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন, যার মাধ্যমে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক ড. ডি.পি. গৌতম এবং ড. সুশীল কুমারও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা নারীর অধিকার রক্ষা, আইনি সুরক্ষা এবং সমাজে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সহকারী অধ্যাপিকা মরিয়ম চক্রবর্তী বক্তব্যে নারীদের জন্য প্রণীত আইনগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সেমিনারের শেষ পর্বে একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা নারীদের জন্য বিদ্যমান সাংবিধানিক ও আইনগত সুরক্ষা, আইনি প্রতিকার এবং বর্তমান সময়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্বে কলেজের গ্রন্থাগারিক কৃষ্ণা দেব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সহকারী অধ্যাপিকা সুপর্ণা দেবনাথ ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।
























