কলকাতা, ২৮ জুন (আইএএনএস): খুব শীঘ্রই কলকাতার ফুটপাত ও পেভমেন্ট থেকে অবৈধ হকারদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন রেলস্টেশনে যেমন উচ্ছেদ অভিযান চলছে, তেমনই কলকাতার ফুটপাতগুলিও অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “রেলস্টেশন হোক বা কলকাতার ফুটপাত ও পেভমেন্ট—এসব ব্যবসা করার জায়গা নয়। যারা বেআইনিভাবে এই জায়গাগুলি দখল করে ব্যবসা করছেন এবং অতীতে যাঁরা এই দখলদারিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, তাঁদের এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।”
মন্ত্রী বলেন, ফুটপাত ও পেভমেন্ট পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। কারণ, সরকারি বা পুরসভার করদাতা সাধারণ মানুষই এগুলি ব্যবহার করেন।
তিনি আরও বলেন, “অবৈধ দখলদারেরা অনেক সময় বৈধ দোকানের প্রবেশপথও আটকে দেন। ওই দোকানমালিকেরাও কর দেন। ফলে করদাতা পথচারী এবং বৈধ ব্যবসায়ী—উভয়ের প্রতিই এটি অন্যায়।”
প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটেন, যা প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।
তাঁর কথায়, “কলকাতার রাস্তায় এমনিতেই প্রচণ্ড যানজট থাকে। তার উপর যদি পথচারীদের রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটতে হয়, তাহলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। তাই এই সমস্যার সমাধান করতেই হবে। অবৈধ দখলদারেরা যদি স্বেচ্ছায় সরে যান, তাহলে ভালো। তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে রাজ্য সরকার।”
উল্লেখ্য, কলকাতার ফুটপাত ও পেভমেন্টে অবৈধ দখলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। বামফ্রন্ট সরকারের আমল থেকেই এই সমস্যা চলে আসছে। শহরের উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। পথচারী ও হকারদের মধ্যে বচসা থেকে শুরু করে যানজট ও দুর্ঘটনার ঘটনাও প্রায়শই ঘটে বলে অভিযোগ।
























