পুনে, ২৭ জুন (আইএএনএস): পুনের রিয়েলটর কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত সিয়া গোয়াল বিয়ে ভাঙার পরিবর্তে বাগদত্তাকে খুনের পথ বেছে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি পারিবারিকভাবে ঠিক হওয়া বিয়ে ভাঙতে চাননি এবং পরিবারের মন ভাঙুক, সেটাও চাননি।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিয়া গোয়াল নাকি স্বীকার করেছেন যে, বিয়ে ভাঙার কথা পরিবারকে জানানোর চেয়ে কেতন আগরওয়ালকে সরিয়ে দেওয়াই তাঁর কাছে সহজ মনে হয়েছিল।
এই মামলায় সিয়া গোয়াল এবং সহ-অভিযুক্ত চেতন চৌধুরীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে একটি খাদে পড়ে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নভেম্বরে নির্ধারিত বিয়ে এড়াতেই সিয়া গোয়াল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের সূত্রের দাবি, সিয়া গোয়াল জেরায় জানিয়েছেন, পরিবারের আবেগে আঘাত না করতেই তিনি বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত জানাননি।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুনে ও লোনাভলা পুলিশ ছয়টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। সিয়ার বাবা-মাকে লোনাভলা সিটি থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর ভাই সাহিল গোয়ালকেও দ্বিতীয় দফায় জেরা করা হয়েছে।
প্রায় ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে সাহিল জানিয়েছেন, তিনি চেতন চৌধুরীকে চিনতেন এবং তাঁর বোনের সঙ্গে চেতনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল একটি ক্রিকেট ম্যাচে। পরে গত বছরের দীপাবলির সময় এক বন্ধুর পার্টিতে তাঁদের পুনরায় দেখা হয় এবং সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের দাবি, কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর মধ্যে ২,০০০-রও বেশি বার ফোনে কথা হয়েছে, যার মোট সময় প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা।
তবে সিয়ার বাবা-মা দাবি করেছেন, তাঁরা কখনও চেতন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা বা কথা বলেননি। অন্যদিকে, সিয়ার আইনজীবীর বক্তব্য, চেতন কেবল তাঁর বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, এই তথ্যপ্রমাণ থেকেই কথিত ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।



















