নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (আইএএনএস) : ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াতে ভারত ‘অপারেশন অমিস্তাদ’ শুরু করেছে। শুক্রবার ভারতীয় বায়ুসেনার (আইএএফ) দুটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান একটি ভারতীয় সেনা ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ৩৫ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এই অভিযানের ঘোষণা দিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেন, “অপারেশন অমিস্তাদ শুরু হয়েছে। আজ দুটি আইএএফ সি-১৭ বিমান ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জরুরি সাহায্য নিয়ে রওনা দিয়েছে। এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনার একটি ফিল্ড হাসপাতাল ইউনিট, ৩৫ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং দুটি ‘ভীষ্ম কিউব’। এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে থাকতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
‘ভীষ্ম কিউব’ একটি অত্যাধুনিক, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য মডুলার চিকিৎসা ব্যবস্থা, যা বিশেষভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
একাধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা মডিউল নিয়ে গঠিত এই ব্যবস্থা খুব অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফিল্ড হাসপাতালে রূপান্তর করা যায়। এতে উন্নত ট্রমা চিকিৎসা, জরুরি অস্ত্রোপচার, নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে প্রায় ২০০ জন রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব। এতে রয়েছে বহনযোগ্য ভেন্টিলেটর, রোগী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অক্সিজেন সহায়তা।
এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত চিকিৎসক দল ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানান, ৬০ প্যারা ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক দল ২৬ জুন দুপুরে হিন্ডন এয়ার ফোর্স স্টেশন থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি বিমানে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
এই অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে ভারতীয় বায়ুসেনার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমান। ভারত ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে আকাশপথের দূরত্ব প্রায় ১৪,৩০০ কিলোমিটার। গ্লোবমাস্টারের একটানা উড়ান সক্ষমতা প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার হওয়ায় পথে একাধিক বন্ধুত্বপূর্ণ দেশে অবতরণ করে জ্বালানি ভরতে হবে বলে সূত্রের খবর।
৪১ সদস্যের এই মেডিক্যাল কনটিনজেন্টে রয়েছেন ৯ জন চিকিৎসক। দলটি জরুরি চিকিৎসা, ট্রমা ব্যবস্থাপনা, জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে সক্ষম। তারা প্রায় ছয় টন চিকিৎসা সামগ্রী এবং বিদেশ মন্ত্রকের সরবরাহ করা মানবিক ত্রাণসামগ্রীও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া শতাধিক মানুষকে উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ এবং উদ্ধারকাজ চলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী অগভীর ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত এক শতাব্দীর মধ্যে এটি ভেনেজুয়েলায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির একটি এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী। পরপর আফটারশকের কারণে আরও ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার মধ্য উপকূলীয় অঞ্চল এবং রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং চলমান আফটারশকের কারণে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এই কঠিন সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে দেশ প্রস্তুত।






















