নয়াদিল্লি, ২৬ জুন (আইএএনএস): মহররম উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ আজও বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ বহু মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের অনুসরণে দৃঢ় থাকতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর আত্মবলিদান আমাদের সাহস, দৃঢ় বিশ্বাস ও নীতিতে অটল থাকার শক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।”
মহররম ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ইসলামের অন্যতম পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচিত। এই মাসের ১০ মহররম বা আশুরার দিন কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের শাহাদাত স্মরণ করা হয়। এ উপলক্ষে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সমাবেশ, শোক মিছিল, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
‘মহররম’ শব্দের অর্থ ‘নিষিদ্ধ’। এটি ইসলামের চারটি পবিত্র মাসের একটি, যে সময় যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে। এ মাসে মুসলিমদের বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনায় মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করা হয়।
মহররম মাসের মাধ্যমেই ইসলামি বা হিজরি নতুন বছরের সূচনা হয়। চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারিত ১২টি চান্দ্র মাস নিয়ে গঠিত ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এটি। নতুন বছরের শুরুতে অনেক মুসলিম মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, সংগ্রাম ও ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাস নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করেন।
বিশেষ করে ১০ মহররম বা আশুরার দিনটি আত্মত্যাগ, ঈমান, ধৈর্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
শিয়া ও সুন্নি মুসলিমরা উভয়েই মহররম পালন করলেও তাঁদের পালনের রীতিতে কিছু পার্থক্য রয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ প্রথম ১০ দিন শোক পালন করেন, কালো পোশাক পরেন, মজলিসে অংশ নেন এবং আশুরার দিন শোক মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, সুন্নি মুসলিমদের অনেকেই ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে ৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম নফল রোজা পালন করেন, যা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।



















